Image description

ভৌগোলিক সীমানা কিংবা দেশের কাঁটাতার কোনো কিছুই যে প্রেমের টানের কাছে বাধা হতে পারে না, তার আরও একটি প্রমাণ মিলল শরীয়তপুরের জাজিরায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গড়ে ওঠা চার বছরের প্রেমকে সার্থক করতে পাকিস্তান থেকে শরীয়তপুরে হাজির হয়েছেন মোজাম্মেল হোসাইন নামের এক পাকিস্তানি তরুণ। তার এই আসার উদ্দেশ্য আর কেউ নন, জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণী তানজিলা। 

ইতোমধ্যেই শরীয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং নবদম্পতি পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এই ‘ক্রস-বর্ডার’ বিয়ে নিয়ে যেমন কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে, তেমনই স্থানীয়দের মনে দানা বেঁধেছে পাচার চক্রের শঙ্কা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় লাহোরের বাসিন্দা উর্দুভাষী মোজাম্মেল হোসাইনের সাথে মজিবর শিকদারের একমাত্র মেয়ে তানজিলার। নিয়মিত চ্যাটিং আর ভিডিও কলের মাধ্যমেই তৈরি হয় গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক।

সেই সম্পর্কের টানেই ১১ জুলাই (শনিবার) লাহোর থেকে সরাসরি জাজিরার বিলাসপুরের রহিম উদ্দিন মালাই মৃধাকান্দি গ্রামের স্টাপল্টন শিকদার কান্দি এলাকায় প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে হাজির হন মোজাম্মেল। এরপর জাজিরায় তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এদিকে তানজিলার মা আসমা আক্তার এই বিয়ে নিয়ে আশাবাদী। তিনি জানান, ছেলের পরিবারের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এতো দূরে মেয়েকে বিয়ে দিতে কিছুটা খারাপ লাগলেও আমাদের মনে কোনো ভয় বা শঙ্কা নেই।

তবে প্রতিবেশী ও স্বজনদের একাংশের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর সন্দেহ। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইদানিং প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের বিদেশে পাচার করার নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে। ছেলের পরিবারের কোনো অভিভাবক ছাড়া এভাবে হুট করে একটি মেয়েকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দারা এই পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারির দাবি তুলেছেন।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ জানান, আমরা এই বিষয়টি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই। অতি দ্রুত খোঁজ-খবর নিয়ে এবং তাদের পাসপোর্ট, ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।