ছাতকে দোকানে অগ্নিকাণ্ড ঘিরে ধোঁয়াশা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঝিগলী গ্রামে একটি দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার সময় বাদীর অবস্থান নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের পুরোনো বিরোধের জেরে যে কোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিগলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক এক ইমামকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় বছর আগে গ্রামটিতে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জেরে পরবর্তীতে একটি পক্ষ পৃথক মসজিদ নির্মাণ করে প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো ‘জুম্মাবাড়ি জামে মসজিদ’ নাম ব্যবহার করলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। এ নিয়ে থানায় মামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
এই বিরোধের মধ্যেই গত ২১ জুন রাতে ঝিগলী স্কুল পয়েন্টের মহিলা মাদরাসা মার্কেটের ‘মা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর’-এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। দোকানের মালিক জুবেল আহমদ এ ঘটনায় ১৪ জনকে আসামি করে ছাতক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার এজাহারে তিনি ঘটনার সময় দোকানে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করলেও, ঘটনার পরপরই এক সংবাদকর্মীকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে বাড়িতে ছিলেন বলে দাবি করেন। জুবেলের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, আধিপত্য বিস্তার ও মসজিদ সংক্রান্ত পুরোনো শত্রুতার জেরে নিরপরাধ ব্যক্তিদের এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা জমিরুল হক ও ফজলুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টিকে পুঁজি করে একটি পক্ষ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, ঝিগলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি মাওলানা আজিজুল হক দাবি করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে ভেন্টিলেটর দিয়ে আগুন দিয়ে জুবেল আহমদকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর। নিজের বক্তব্যের অসংগতির বিষয়ে জুবেল আহমদ বলেন, ঘটনার সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় তিনি কী বলেছেন তা মনে নেই, তবে মামলার এজাহারের তথ্যই সঠিক।
জাহিদপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, কয়েলের আগুন নাকি নাশকতামূলক—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।’
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments