রাত হলেই কবরস্থানে চলে মাদকের আড্ডা, স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘কাঁচপুর সামাজিক কবরস্থান’ দীর্ঘদিন ধরে চরম নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কবরস্থানের পশ্চিম পাশে সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) না থাকা এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতের বেলায় সেখানে মাদকসেবী, চোর ও ছিনতাইকারীদের বিচরণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, কাঁচপুর রহিম স্টিল মিলসের দক্ষিণে এবং স্থানীয় মসজিদের পেছনে অবস্থিত এই কবরস্থানটি কাঁচপুর ইউনিয়নের খানবাড়ি, পুরান বাজার, উত্তরপাড়া, রায়েরটেক, নয়াবাড়ি, পাঁচপাড়া, খাসপাড়া ও পাঠাত্তাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি সমাজের উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাদের স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে এখানে আসেন। কিন্তু পশ্চিম দিকটি উন্মুক্ত থাকায় অপরাধীরা সহজেই এখানে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে অসাধু ব্যক্তিরা সেখানে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় এবং অপরাধ করার পর কবরস্থানটিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে।
কবরস্থানের খাদেম সানাউল্লাহ জানান, তিনি ফজর থেকে এশা পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রাতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে থাকতে পারেন না। তিনি বলেন, “ছিনতাইকারী ও চোরেরা এ পর্যন্ত অন্তত ১০ বার কবরস্থানের বৈদ্যুতিক লাইন, সাবমারসিবল পাম্পের তার এবং বিভিন্ন লোহার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। রাতে এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। পাশেই বড় বড় ফ্যাক্টরি থাকায় ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন মালামাল চুরি করে এনে এখানে লুকিয়ে রাখে। আমরা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে কবরস্থানের ভেতরে গেলে পশ্চিম দিকের গাছতলায় মাদক সেবনের ও আড্ডা দেওয়ার অসংখ্য চিহ্ন দেখা যায়। নিরাপত্তার অভাবে এখন রাতের বেলা ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
কাঁচপুর সামাজিক কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি আ. মজিদ খাঁন বলেন, “কবরস্থানের প্রধান ফটক ও খাদেম থাকলেও পশ্চিম পাশে সীমানা প্রাচীর না থাকায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের কাছে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য আবেদন করেছি। এখানে দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা জরুরি। এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ পেলে এই পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
এ বিষয়ে কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, “আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আমার কাছে লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সোনারগাঁও থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় এবং অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জন প্রতিনিধিদের দ্রুত হস্তক্ষেপই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments