Image description

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর ধরে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) পদটি শূন্য রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে প্রথম উপ-উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন পদটি খালি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনাকে প্রথম উপ-উপাচার্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের মার্চে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৯-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী, আচার্য প্রয়োজনবোধে চার বছরের জন্য কোনো অধ্যাপককে এই পদে নিয়োগ দিতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা জানান, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন, একাডেমিক তদারকি এবং নীতিনির্ধারণী কমিটির সমন্বয়ে উপ-উপাচার্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদটি খালি থাকায় উপাচার্যের ওপর কাজের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে, শূন্য এই পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মাঝে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্ব পালন করছেন।

গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সাদা দলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ড. ফেরদৌস রহমানের মতো দক্ষ ও গবেষক শিক্ষক এই পদে নিয়োগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “উপ-উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি আমার এখতিয়ারে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নিয়োগ প্রদান করেন।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর