Image description

সুনামগঞ্জে আদালতের ভেতর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৪১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই আশরাফুল বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম আবুল খায়ের সজল। তিনি তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় তাঁকে সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সদর জোন) সোপর্দ করা হয়।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন পিপিএম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে তাহিরপুর থানায় দায়েরকৃত একটি নাশকতা মামলায় আত্মসমর্পণ করেন উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জিল্লুর আখঞ্জি। আদালতের বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই মামলার অন্য আসামিরা ইতিপূর্বে জামিনে থাকায় আদালত তাঁদের জামিন বহাল রাখেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জিল্লুর আখঞ্জির জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় তাঁকে যখন এজলাস থেকে কাস্টডিতে নেওয়া হচ্ছিল, তখন আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত জেলা ও উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় তাঁরা আদালতের ভেতরেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যান। এই ঘটনায় আদালত পাড়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্লোগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তার (জিআরও) দপ্তরে থাকা হাজিরা তালিকা ধরে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তালিকায় তাহিরপুরের নাশকতার মামলায় হাজিরা দিতে আসা এক কিশোরসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্লোগান দেওয়ার আগেই অনেকে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করলেও তাঁদের হয়রানিমূলকভাবে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁরা তথ্যপ্রযুক্তি ও ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, “মামলার তদন্ত ও বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে এই মুহূর্তে সবার নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর