দুই কিডনি বিকল একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১০ বছর বয়সী শিশু মাহিন গত তিন বছর ধরে গুরুতর কিডনি জটিলতায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। চিকিৎসকদের মতে, মাহিনের দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন হলেও ১০-১২ লাখ টাকার ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই পরিবারটির। একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে এখন নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা শান্তা আক্তার।
মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে মাহিন। সে স্থানীয় নাসিরাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাহিনের বাবা নদীতে মাছ ধরে কোনোমতে সংসার চালান। সামান্য আয়ে টেনেটুনে সংসার চললেও আদরের সন্তানের এই বিশাল চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাহিনের মা শান্তা আক্তার বলেন, ‘আমার বাচ্চার দুইটা কিডনিই ড্যামেজ হয়ে গেছে। ডাক্তার বলেছেন, তাকে বাঁচাতে হলে দ্রুত কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। এতে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন। গত দুই-তিন বছরে ধার-দেনা করে প্রায় ১০ লাখ টাকা চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছে। এখন আর আমাদের কিছুই অবশিষ্ট নেই। চিকিৎসা চালানোর মতো কোনো সামর্থ্যও নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামী নদীতে মাছ ধরে যা পান তা দিয়ে চাল কিনতেই কষ্ট হয়। এখন আমার হাতে একটি টাকাও নেই। আমি শুধু আমার ছেলেকে সুস্থ দেখতে চাই। আমি দেশের মানুষ ও হৃদয়বানদের কাছে মিনতি করছি, দয়া করে আমার সন্তানটাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।’
পরিবার জানায়, ছোটবেলা থেকেই মাহিন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল। গত তিন বছরে অবস্থার অবনতি হলে দেশের বিভিন্ন বড় বড় হাসপাতালে তাকে দেখানো হয়। বর্তমানে অর্থের অভাবে মাহিনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহিন নিজেও আকুতি জানিয়ে বলেছে, সে বাঁচতে চায়। সবার কাছে সে সামান্য সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে।
সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এগিয়ে এলে মাহিন ফিরে পেতে পারে সুস্থ জীবন। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ বাঁচাতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে তাঁর পরিবার।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments