Image description

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সহকারী বা ‘পার্সোনাল এআই এজেন্ট’ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। তিনি আরো বলেন, এই এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও লক্ষ্য বুঝে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে সহায়তা করবে।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ-এর প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।

মেটার সর্বশেষ আয়-সংক্রান্ত (আর্নিংস) কনফারেন্স কলে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে জাকারবার্গ বলেন, পাঁচ বছর পর এমন একটি পৃথিবী কল্পনা করা কঠিন হবে, যেখানে মানুষের নিজস্ব এআই এজেন্ট থাকবে না। ভবিষ্যতের এআই শুধু তথ্যের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং ব্যবহারকারীর হয়ে নানা ধরনের কাজ সম্পন্ন করবে।

জাকারবার্গ বলেন, ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময়সূচি মনে করিয়ে দেওয়া, আর্থিক পরিকল্পনায় সহায়তা, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শ, দৈনন্দিন কাজের তালিকা তৈরি এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে মানুষ একাধিক এআই এজেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করবে। সে কারণে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব আরো বাড়বে। বর্তমানে মেটা এআই ব্যবহারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো হোয়াটসঅ্যাপ।

এআইভিত্তিক ব্যক্তিগত সহকারী তৈরির প্রতিযোগিতায় মেটা একা নয়।

গুগল, ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকও আরো উন্নত এআই সহকারী তৈরিতে কাজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হলো এমন এআই তৈরি করা, যা শুধু তথ্য দেবে না, বরং ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজও সম্পন্ন করতে পারবে।
এআই অবকাঠামো শক্তিশালী করতে বিপুল বিনিয়োগ করছে মেটা। কম্পানির ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি বিভাগ চলতি প্রান্তিকে প্রায় ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পরিচালন লোকসান করেছে। ২০২১ সাল থেকে এ বিভাগের মোট লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৮৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে, এআই সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণেও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি মেটা ও ব্ল্যাকরক টেক্সাসে ১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে।

জাকারবার্গ জানান, ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট ভবিষ্যতে মেটার অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক ক্ষেত্র হয়ে উঠবে। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে চালু থাকা মেটার ব্যবসায়িক এআই এজেন্ট বিশ্বের ১০ লাখের বেশি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে।


মানবকণ্ঠ/এমআর