দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এর আওতায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের ১১ জন আমদানিকারক প্রায় ৩ হাজার ৪০০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন।
প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল থেকেই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি কাঁচা মরিচের দাম আরো কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, অনুমতি পাওয়ার পর আমদানিকারকরা ইতিমধ্যে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে সোমবার বিকেল থেকেই ভারত থেকে কাঁচা মরিচবাহী ট্রাক হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করবে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম বলেন, ‘টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। এতে বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়ে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকারও বেশি উঠে যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আমদানির অনুমতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন আমদানিকারকরা। সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর দ্রুত এলসি খুলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সোমবার বিকেল থেকেই ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হবে বলে আশা করছি।’
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছে। অনুমতি পাওয়া আমদানিকারকরা এখন ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি করতে পারবেন। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ গত বছরের ২০ নভেম্বর ভারতীয় কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এ বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হচ্ছে।’
এদিকে, আমদানির খবরে বাজারে ইতিমধ্যেই ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা কমেছে। বর্তমানে বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে আগের তুলনায় অনেক কম দামে। আমদানি নিয়মিত হলে সরবরাহ আরো বাড়বে এবং দাম আরো কমে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/এমআর




Comments