দেশজুড়ে ‘রিপন ভিডিও‘ নামে পরিচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সালিশে রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী ১৩ বছর বয়সী শিশুটি ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
সোমবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শিশুটির সঙ্গে রিপন মিয়ার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। স্থানীয়রা কয়েকদিন আগে সেই শিশুর সঙ্গে রিপনকে বাড়ির পিছনে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশের ব্যবস্থা করে। সালিশে রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রিপন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে রিপন মিয়াকে পাওয়া যায়নি।
রিপন মিয়ার স্ত্রী বলেছেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে, মানুষের মুখ থেকে ঘটনাটি শুনেছি। আমার স্বামী জানিয়েছেন, তিনি নিরপরাধ। তাকে অন্যায়ভাবে জরিমানা করা হয়েছে। সালিশে আমার স্বামী ব্যতিত পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে রাখা হয়নি। বিষয়টি অন্যায়ভাবে আমার স্বামীর উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের পরিবারে ওই মেয়ের যাতায়াত ছিল।”
সালিশে উপস্থিত থাকা স্থানীয় বাসিন্দা সুজন মিয়া জানিয়েছেন, সালিশে রিপন মিয়া বিষয়টি স্বীকার করে গণমান্য ব্যক্তিদের পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে। পরে সালিশে তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেছেন, “আমার মেয়ে বর্তমানে অন্য এলাকায় অবস্থান করছে। ধর্ষণের ঘটনাটি প্রথমে স্থানীয়দের মুখে শুনেছি। পরে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। আমরা সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। মুরুব্বিরা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, আমরা সেটা মেনেছি।”
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেছেন, “এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি দেখে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। এমন ঘটনা গ্রাম্য দরবারের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে নিষ্পত্তির সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




Comments