Image description

রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর নতুন ধারা বাংলাদেশের ছয় নেতাকর্মীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তাদের হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে বের করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। এ সময়ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। আহত অবস্থায় তাদের হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাব্বানী।

পুলিশ হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন— নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল এবং হরিদাস সরকার।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন জানান, ঢাকা মেডিক্যালে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ছয়জনকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ পাহারায় শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে জরুরি বিভাগে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা দফায় দফায় বন্ধ হয়ে যায়।

নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা অভিযোগ করেন, প্রেসক্লাবের সামনে তাদের শান্তিপূর্ণ মশাল মিছিল চলাকালে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আয়াসের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে গেলেও ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল আবার হামলা চালায়। এতে তাদের ছয় নেতাকর্মী আহত হন এবং তার পোশাকও ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আয়াস অভিযোগ করেন, শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে কটূক্তি ও ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদ করতে গেলে শান্তা ফারজানা, মোমিন মেহেদীসহ ৩০ থেকে ৪০ জন তাদের ওপর হামলা চালান। পরে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে মঞ্চ-২৪-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহীদ আবু সাঈদ এবং ধর্ম নিয়ে কোনো কটূক্তি নতুন বাংলাদেশে মেনে নেওয়া হবে না।

উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে।