ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা (এনএইচএস) থেকে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড আত্মসাতের দায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক লেবার পার্টির সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী আমরান হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের মেডস্টোন ক্রাউন কোর্ট।
আদালত ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে নর্থ ইস্ট হ্যাম্পশায়ার আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী ছিলেন ৪০ বছর বয়সী আমরান হোসেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর ২০১৪ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তিনি এনএইচএস ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ৭১টি চাকরির আবেদন করেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বার্কবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া মাস্টার্স ডিগ্রির সনদ এবং জাল রেফারেন্স ব্যবহার করে তিনি ১৩টি জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পান। এসব পদের মধ্যে বছরে ৭৮ হাজার পাউন্ডের বেশি বেতনের চাকরিও ছিল।
তদন্তে দেখা যায়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি পোস্ট-কোভিড জটিলতা, মাইগ্রেন, ক্লান্তি ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার অজুহাতে দীর্ঘ সময় অসুস্থতার ছুটিতে থাকতেন। মোট ১ হাজার ৯০২ দিনের চাকরিজীবনের মধ্যে ১ হাজার ৩৩২ দিনই তিনি ছুটিতে কাটান। এভাবে কোনো কাজ না করেই সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার পাউন্ড গ্রহণ করেন।
তার প্রতারণা শুধু এনএইচএসেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কেন্ট কাউন্টি কাউন্সিল, নটিংহাম সিটি কেয়ার পার্টনারশিপ এবং ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সিতেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি পুলিশি জামিনে থাকা অবস্থায় ২০২৩ সালে ওয়েস্টারহাম টাউন কাউন্সিলের কাউন্সিলর হিসেবেও নির্বাচিত হন।
২০২১ সালে এনএইচএসের একটি উচ্চপদে নিয়োগের প্রাক-যাচাইয়ে তার দেওয়া শিক্ষাগত ও চাকরির তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কখনোই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বা বার্কবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না।
২০২২ সালের নভেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচার চলাকালে তিনি নিজেকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য দাবি করলেও আদালতে সেটিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। পরে প্রতারণার তিনটি অভিযোগে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এনএইচএস কাউন্টার ফ্রড অথরিটির অপারেশন্স প্রধান বেন হ্যারিসন বলেন, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমরান এনএইচএসের উচ্চপদগুলো দখল করেছিলেন, যা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জনআস্থাও ক্ষুণ্ন করেছে।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে আইনি বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে এনএইচএস ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোতে নিয়োগের আগে সনদপত্রের রিয়েল-টাইম যাচাই ও আরও কঠোর প্রাক-নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




Comments