জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর হাসপাতালে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগকে ইসরায়েলের সঙ্গে তুলনা করেছেন সাদিক কায়েম।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি, জিএসসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত কায়দায় হামলা করেছে। হামলার পরে যখন এই শিক্ষার্থীরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাচ্ছিল, সেই হাসপাতালেও কাপুরুষের মতো এই সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। আমরা দেখতে পাই, পৃথিবীর ইতিহাসে তিনটি গ্রুপ হাসপাতালে কাপুরুষের মতো হামলা করেছে। এক নম্বর হচ্ছে ইসরায়েল, দুই নম্বর হচ্ছে ছাত্রলীগ এবং তিন নম্বর হচ্ছে এই ছাত্রদল।’
সমাবেশে বর্তমান সরকার ও ছাত্রদলের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান সরকার গত ছয় মাসে তাদের ব্যর্থতার মাধ্যমে পাগল হয়ে গেছে। গত ছয় মাসে তাদের ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি প্রাঙ্গণে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই দল ও জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা তাদের ছাত্রসংগঠনকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’
ছাত্রদলকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের বলতে চাই, তোমরা যদি এই সন্ত্রাসের পথ অব্যাহত রাখো, ক্যাম্পাসগুলোতে যদি আবার গণরুম-গেস্টরুমের কালচার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চাও, আমার ভাই-বোনদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখো, তবে আমরা ছাত্রলীগের যে পরিণতি করেছিলাম, তার চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি তোমাদের করব।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা তারেক জিয়াকে অনুরোধ করব, আপনি যদি মনে করেন সেই ৯০-এর দশকে আছেন, অথবা ২০০১-এর পর থেকে ক্যাম্পাসগুলোতে যে সন্ত্রাসের রাজত্ব করেছেন, সেই সন্ত্রাস করে আবার ক্যাম্পাসগুলোতে দখলদারিত্ব করবেন, সেই রাজনীতি আর চলবে না। আবু সাঈদের উত্তরসূরিরা, শহীদ আলী রায়হানের উত্তরসূরিরা বেঁচে থাকতে ক্যাম্পাসগুলোতে আর এই গণরুম-গেস্টরুম সন্ত্রাসের রাজনীতি আমরা ফিরতে দেব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পেয়েছি, এই সরকার ছয় মাসে তাদের ব্যর্থতার কারণে আজ জ্বালানির দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা দেখতে পেয়েছি গ্যাস সংকট, প্রত্যেকটি জায়গায় অব্যবস্থাপনা। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে আমি মনে করি, মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী—সবার পদত্যাগ করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া দরকার।’
এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সব ছাত্রসমাজকে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য এবং গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য সজাগ থাকতে হবে। ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এবং ছাত্র সংসদগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের পাশে আছে এবং থাকবে।’
মানবকন্ঠ/এমআর




Comments