Image description

সকাল ৮টা ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে। চারদিকে উৎকণ্ঠা। কেউ নিশ্চিত নয়, দিনটি কী নিয়ে আসছে।
একজন রিকশাচালক বললেন, — "আজ ভাড়া কামাই হবে কি না জানি না, কিন্তু মনে হচ্ছে ইতিহাসের দিন।"


একজন বাসচালক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, — "গাড়ি বন্ধ থাকুক, তবু যদি মানুষের কষ্টের শেষ হয়।"
সকাল ১০টা.ইন্টারনেট বন্ধ। কিন্তু খবর থেমে নেই। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে—
"ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে মার্চ টু গণভবন শুরু হয়েছে!"


একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দৌড়ে এসে বলল, — "নেট নেই, কিন্তু মানুষই আজ খবরের কাগজ!"
একজন দোকানদার জিজ্ঞেস করলেন, — "সত্যি?"
— "হ্যাঁ কাকা, সবাই এগিয়ে যাচ্ছে।"
একজন স্কুলশিক্ষক বললেন, — "আজকের পাঠ্যবই নয়, আজ ইতিহাস নিজেই লেখা হচ্ছে।"
দুপুর ১২টা।
হঠাৎ চারদিকে একসঙ্গে রব উঠল—
"পালাইছেরে... পালাইছে... শেখ হাসিনা পালাইছে!"
প্রথমে কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল না।
একজন বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা চুপচাপ বসে ছিলেন। তাঁর চোখ ভিজে উঠল, তিনি বললেন,
— "দ্বিতীয় বার স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছি"
একজন তরুণ বলল, — "চাচা, সত্যি নাকি?"
বৃদ্ধ উত্তর দিলেন, — "সত্যি হলে আজ অনেক মায়ের চোখের পানি বৃথা যাবে না।"
দুপুর ১টা।
ইন্টারনেট চালু হলো।
মোবাইল ফোনে একের পর এক সংবাদ আসতে লাগল।
মানুষ একে অপরকে ফোন করছে।
— "দেখছিস?"
— "হ্যাঁ, খবর সত্যি!"
— "আলহামদুলিল্লাহ!"
চারদিকে কান্না, আলিঙ্গন, সিজদা।
হাসপাতাল
একটি সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড।
আন্দোলনে আহত রাকিব এখনও বিছানায়।
নার্স দৌড়ে এসে বললেন,
— "খবর শুনেছেন?"
রাকিব কষ্ট করে উঠে বসল।
— "কি হয়েছে আপা?"
— "সবাই বলছে... পরিবর্তন এসেছে।"
রাকিবের চোখে পানি।
— "তাহলে... আমার বন্ধুদের রক্ত বৃথা যায়নি?"
পাশের বেডের বৃদ্ধ রোগী বললেন,
— "বাবা, আজ ব্যথাও যেন কম লাগছে।"
একজন চিকিৎসক চুপচাপ জানালার দিকে তাকিয়ে বললেন,
— "আজ অপারেশন থিয়েটারের বাইরেও একটা জাতির নতুন অধ্যায় শুরু হলো।"
শহীদ পরিবারের বাড়ি
একজন মা তাঁর ছেলের ছবির সামনে বসে আছেন।
টিভির সংবাদ শুনে ছবিটা বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
— "বাবা... তুই তো আর ফিরবি না..."
— "কিন্তু তোর স্বপ্নটা হয়তো বেঁচে থাকল।"
পাশে দাঁড়ানো ছোট বোন কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— "মা, ভাইয়া যদি আজ থাকত..."
মা উত্তর দিলেন,
— "ও আজ নেই, কিন্তু ওর কথা আজ সবাই বলবে।"
বিকেল ৩টা
সেনাপ্রধান টেলিভিশনে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেন।
অনেক মানুষ উল্লাসে রাস্তায়, আবার অনেকে সংযমের কথাও বলছেন।
একজন ইমাম বললেন,
— "আনন্দ করবেন, কিন্তু অন্যায় করবেন না।"
একজন আইনজীবী বললেন,
— "আজ থেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরীক্ষা শুরু।"
একজন বিচারক ফিসফিস করে বললেন,
— "ন্যায়বিচারই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।"
মানুষের প্রতিক্রিয়া
১. কৃষক: "মাঠে কাজ করি, শুধু শান্তি চাই।"
২. জেলে: "নদীতে যেমন ঝড় থামে, দেশের ঝড়ও থামুক।"
৩. গার্মেন্টস কর্মী: "আমাদের ঘাম যেন সম্মান পায়।"
৪. চিকিৎসক: "আর যেন গুলিবিদ্ধ মানুষে ওয়ার্ড ভরে না যায়।"
৫. নার্স: "আজ রোগীদের চোখেও হাসি।"
৬. শিক্ষক: "সত্য ইতিহাস পড়াতে চাই।"
৭. বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী: "ভবিষ্যৎ এখন আমাদের হাতে।"
৮. রিকশাচালক: "আজ ভাড়া কম হলেও মন ভরা।"
৯. বাসচালক: "শান্তিতে গাড়ি চালাতে চাই।"
১০. দোকানদার: "আজ দোকানের চেয়ে মানুষের মুখ বেশি দেখছি।"
১১. সাংবাদিক: "আজ সংবাদ লিখতে গিয়ে হাত কাঁপছে।"
১২. কবি: "আজকের কান্নাই আগামী দিনের কবিতা।"
১৩. শিল্পী: "এই দিনের ছবি একদিন ইতিহাস হবে।"
১৪. পুলিশ সদস্য: "দেশের মানুষ নিরাপদ থাকুক।"
১৫. সেনাসদস্য: "শান্তিই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।"
১৬. প্রকৌশলী: "এবার দেশ গড়ার সময়।"
১৭. সফটওয়্যার প্রকৌশলী: "ইন্টারনেট ফিরে এসেছে, মানুষও যেন স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে।"
১৮. মসজিদের মুয়াজ্জিন: "আল্লাহর কাছে দেশের জন্য দোয়া করি।"
১৯. গৃহিণী: "আমার সন্তান যেন ভয় ছাড়া বড় হয়।"
২০. শিশু: "মা, আজ সবাই কাঁদছে আবার হাসছেও কেন?"
মা ছেলেকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন,
— "কখনও কখনও আনন্দ আর শোক একসঙ্গেই আসে, বাবা।"
সন্ধ্যা নামতে শুরু করল।
কোথাও উল্লাস, কোথাও নীরবতা।
যারা হারিয়ে গেছেন, তারা আর ফিরবেন না। কিন্তু তাঁদের স্মৃতি, স্বপ্ন আর ত্যাগ নিয়ে মানুষ নতুন দিনের প্রত্যাশা করতে লাগল।
আকাশে তখন লাল সূর্য ডুবছে।
একজন বৃদ্ধ ধীরে ধীরে বললেন,
— "একটি দিনের শেষ মানেই আরেকটি দিনের শুরু। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ—শান্তি, ন্যায় আর মানবিকতার বাংলাদেশ গড়া।"

মানবকণ্ঠ/এমআর