Image description

নেত্রকোণায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার অচিন্তপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোণা সদর থানায় রিপন মিঞার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত রিপন পলাতক ছিলেন।

মামলার এজাহার ও র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোণা সদর উপজেলার বাসিন্দা রিপন মিঞা ও ভুক্তভোগী কিশোরী একই এলাকার প্রতিবেশী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতির সুযোগ নিয়ে রিপন ওই কিশোরীকে বিভিন্ন ভিডিওতে নেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

গত ৩০ জুলাই রাত আটটার দিকে জরুরি কথা বলার বাহানায় রিপন ভুক্তভোগীকে মগড়া নদীর উত্তর পাড়ে ডেকে নিয়ে যান এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এদিকে ঘটনাটি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ানোর আগেই গত সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা বাজারে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে এক সালিশ বৈঠক বসে।

ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মুন্সি, আতাউর রহমান এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন ও দৌলত মিয়াসহ স্থানীয় কয়েকজন ওই বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। সালিশে অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য সাত দিনের সময়ও বেঁধে দেন তারা।

তবে রাজনৈতিক কার্যালয়ে ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার সালিশ ডেকে নিষ্পত্তির চেষ্টা চালানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। আইনি বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করে অপরাধীকে রক্ষার এ চেষ্টাকে আইন হাতে তুলে নেওয়ার শামিল বলে দাবি করছেন তারা। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, আসামিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুতই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।