ন্যাটোর ঐক্য বিনষ্ট করতে জোটভুক্ত কোনো দেশে সীমিত পরিসরে হামলা চালাতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আমেরিকান সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এ প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার সাইবার হামলা, গোপন অভিযান এবং ছোট আকারের সামরিক অনুপ্রবেশ ঘটানোর মতো নানা দৃশ্যপট খতিয়ে দেখছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। ওয়াশিংটনের এই মূল্যায়নকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন ধারণা করা হচ্ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত থাকায় পুতিন সরাসরি ন্যাটোর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলবেন। তবে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি ধীর হয়ে আসায় মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য কোনো পদক্ষেপ এলাকা দখলের উদ্দেশ্যে নয়, বরং জোটের ভেতরের ফাটল জনসম্মুখে উন্মোচিত করাই মূল লক্ষ্য হতে পারে। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষক হিদার কনলি বলেন, "এমন ঘটনা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।" ইতোমধ্যে পোল্যান্ডে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র পড়া এবং রোমানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনাকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন মার্কিন ও ইউরোপীয় নেতারা। গোয়েন্দারা অনুমান করছেন, চলতি বছরের শরৎকাল থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপের রূপ দেখা যেতে পারে।
সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের সম্ভাবনা কম হলেও, ছায়াযুদ্ধের ক্ষেত্রে ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’ যৌথ প্রতিরক্ষা নীতি প্রয়োগ করা আইনি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। তবে ন্যাটোর মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন ও’ডনেল স্পষ্ট জানিয়েছেন, ন্যাটো যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সতর্ক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে রুশ হুমকির এই নতুন তথ্যের মাঝেই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত ওয়াশিংটন। দীর্ঘদিনের ইউক্রেন সহায়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি ইরানে সামরিক অপারেশনের ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর লং-রেঞ্জ প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল, ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটাকমস) ও স্টিঙ্গার মিসাইলের মজুত কমে গেছে। এছাড়া প্যাট্রিয়ট, এসএম-৩ ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও চরম চাপে রয়েছে। সিএসআইএস-এর মতে, এসব অস্ত্র রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মার্কিন জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমার বিষয়ে সতর্ক করলেও পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনায় পর্যাপ্ত কৌশলগত সক্ষমতা নিশ্চিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে।
Comments