Image description

একটি বিশেষ চক্র সুপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক চিকিৎসক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের সীমাবদ্ধতা ও আগামীর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তখন একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছি। দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন এবং জরাজীর্ণ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভেতর থেকে দেশকে সফলভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা এখনো সক্রিয়। বিগত দিনের অপরিকল্পিত প্রজেক্টগুলো আমাদের জ্বালানি খাতকে বিপদের মুখে ফেলেছে। সরকার বর্তমানে এসব সংকট দূর করে জ্বালানি খাতকে স্থিতিশীল করতে কাজ করছে।”

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ‘প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে উত্তম’। এই দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিতে আমরা দেশজুড়ে ১ লাখ ‘হেলথ ওয়ার্কার’ বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিৎসকদের নেতৃত্বে নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন।”

চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের রাজনীতির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শিক্ষক বা পেশাজীবীদের রাজনীতি সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়। তবে মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন কোনোভাবেই পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন না ঘটায়।”

সমাবেশে ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক আশ্বাস দিয়ে বলেন, বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২-৩৪ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬১-৬৫ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাবগুলো সরকার বিবেচনা করছে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং বেসরকারি খাতের চিকিৎসকদের জন্য ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের বিষয়েও সরকার আন্তরিক।

বাজেট বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম স্বাস্থ্যখাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করা। এছাড়া দ্রুততম সময়ে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু এবং প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি মানুষের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে সরকারি-বেসরকারি সকল চিকিৎসকের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এছাড়া ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার চিকিৎসক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর