Image description

ইরান ও ওমানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এক কর্মকর্তার দাবি করেন, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তির অগ্রগতি হয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধও তুলে নেওয়া হতে পারে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রয়টার্সকে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা এগিয়েছে এবং শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দূর করে প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা এলে ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার করবে ওয়াশিংটন।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে সংঘাত শুরুর পর ইরান তেলবাহী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপ এবং অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগের মুখে পড়ে। এতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতিও আরও তীব্র হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনভিত্তিক ইরানের মিত্র হুথিরাও লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি বা ADNOC জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় তাদের ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় একজন ক্রু নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি:
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ সশস্ত্র হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ। তবে তুরস্ক জানিয়েছে, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। তবে চুক্তিটি এমন এক সময়ে হলো, যখন শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের সঙ্গে সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।

লেবানন ফ্রন্ট সমঝোতার চেষ্টা:
অন্যদিকে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত বন্ধেরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
লেবাননের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য কোন কোন দেশ সেনা পাঠাতে পারে, সে বিষয়ে লেবানন ও ইসরায়েল একটি সম্ভাব্য দেশের তালিকা নিয়ে একমত হয়েছে। ওই তালিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশগুলো নির্বাচন করবে বলে জানা গেছে।

এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন পুনরায় চালুর বিষয়েও কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে ৭ জুলাই আবারও সংঘাত শুরু হয়। তবে ২৯ জুলাইয়ের পর ইরানে নতুন কোনো হামলার কথা জানায়নি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দেশটির অন্যান্য ক্ষমতাকেন্দ্র—বিশেষ করে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের- মধ্যে মতপার্থক্য শান্তি আলোচনা জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সংলাপের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায় করা সম্ভব হলে আলোচনায় আপত্তি থাকার কারণ নেই। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-ওমানের সম্ভাব্য সমঝোতা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমাতেই নয়, বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ও জ্বালানির দাম স্থিতিশীল করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র- রয়টার্স 
এম আর