ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় ব্রমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানান, গত সোমবার জাতীয় উদ্যানটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মাউন্ট ব্রমোর কাছে অবস্থিত ওই এলাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭৬ হেক্টর (৪৩৫ একর) জমি পুড়ে গেছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় উদ্যানে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, এখন পর্যন্ত আগুনে কেউ আহত হননি। কোনো স্থাপনা বা সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়নি।
তবে পাহাড়ি এলাকার খাড়া ঢাল ও প্রবল বাতাসের কারণে কিছু এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।
রোববার এক বিবৃতিতে আবদুল মুহারি বলেন, খাড়া ঢাল ও প্রবল বাতাসের কারণে যেসব এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশপথে অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর আগে ২০২৩ সালে মাউন্ট ব্রমো এলাকায় ভয়াবহ আগুনে ৫০০ হেক্টরেরও বেশি জমি পুড়ে যায়। সে সময় বিয়ের আগে ছবি তোলার সময় এক দম্পতি ফ্লেয়ার জ্বালানোর পর সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল।
এদিকে, চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুম আরও দীর্ঘ ও তীব্র হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি। এতে দাবানল ও খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে এল নিনো আবহাওয়াজনিত ঘটনাকে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইন্দোনেশিয়ায় ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি আগুনে পুড়ে গেছে। ২০২৩ সালের একই ধরনের দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তুলনায় এ পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতে এর প্রভাবে তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়া দেখা যায়।
সূত্র: এএফপি
এসএস




Comments