Image description

প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ফিরছে টেস্ট ক্রিকেট। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নর্দার্ন টেরিটরির মারারা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। তবে এই ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডারউইনের অদ্ভুত এক পিচ— ‘ড্রপ-ইন স্প্লিট পিচ’।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ডারউইনের এই মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপস্থিতি বেশ বিরল। ২০০৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২২ বছর এখানে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি এবং ২০০৪ সালের পর আর কোনো টেস্টও অনুষ্ঠিত হয়নি। কাকতালীয়ভাবে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে এই ডারউইনেই বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবার ‘স্প্লিট পিচ’ ব্যবহার করা হয়েছিল। দুই দশক পর সেই স্মৃতি নিয়েই আবার একই ধরনের পিচে খেলতে নামছে টাইগাররা।

কী এই ‘স্প্লিট পিচ’?
সাধারণত ‘ড্রপ-ইন পিচ’ মাঠের বাইরে তৈরি করে ক্রেনের সাহায্যে মূল মাঠে এনে বসানো হয়। তবে ডারউইনের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো ২২ গজের পিচটি একসঙ্গে বহন করা সম্ভব হয় না। তাই বাইরে প্রায় ১০ মাস ধরে প্রস্তুত করা পিচটিকে মাঝখান দিয়ে দুই ভাগে কাটা হয় এবং আলাদাভাবে মাঠে এনে জোড়া লাগানো হয়। এ কারণেই পিচের ঠিক মাঝখানে সংযোগস্থলের একটি সূক্ষ্ম রেখা দৃশ্যমান থাকে। একেই বলা হচ্ছে ‘স্প্লিট পিচ’।

পিচের এই দৃশ্যমান রেখা নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও আশ্বস্ত করেছেন ডারউইনের প্রধান কিউরেটর জ্যাক পাভলিচ। তিনি জানান, পিচ দুই টুকরো হলেও এর আচরণে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। পাভলিচ বলেন, “মাঠে আনার আগে পিচটি কাটা হলেও বসানোর পর সেটিকে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের পিচ হিসেবেই প্রস্তুত করা হয়েছে। মাঝখানের রেখাটি সম্পূর্ণ সমতল এবং সেখানে বল পড়ে অস্বাভাবিক আচরণ করার কোনো সম্ভাবনা নেই।”

কিউরেটরদের প্রত্যাশা, এই উইকেটে ব্যাটাররা সুবিধা পাবেন এবং বোলারদের উইকেট পেতে বেশ পরিশ্রম করতে হবে। তবে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে উইকেটের আচরণ কেমন হবে, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ ডারউইনের এই বিশেষ পিচে দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচের অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত।

দীর্ঘ ২২ বছর পর ডারউইনে টেস্টের প্রত্যাবর্তন এবং ‘দুই টুকরো’ পিচের রহস্যময় আচরণ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার এই লড়াইকে ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বে বাড়তি কৌতূহল বিরাজ করছে।

ডিআর