Image description

‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় এবার একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো গড়ে তুলতে যাচ্ছে সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্ক। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ওই প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে দেশ তিনটি নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চূড়ান্ত উদ্যোগ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আঙ্কারায় এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় ও সহযোগিতার পথ প্রশস্ত হবে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য বিনিময়ের পাশাপাশি যেকোনো সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকটে দ্রুত পারস্পরিক সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া তিন দেশের সামরিক বাহিনীর দক্ষতা ও সমন্বয় বাড়াতে নিয়মিত ‘যৌথ সামরিক মহড়া’র পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

মক্কা চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা। তিন দেশ ভবিষ্যতে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে। বিশেষ করে তুরস্কের দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিরক্ষা শিল্প, পাকিস্তানের অভিজ্ঞ সামরিক সক্ষমতা এবং সৌদি আরবের বিশাল বাজেটের সমন্বয়ে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত সামরিক যান তৈরির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

মুসলিম বিশ্বের তিন প্রভাবশালী সামরিক শক্তির এই জোট গঠনকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সৌদি আরবের অর্থবল, পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি ও জনবল এবং তুরস্কের ন্যাটোভিত্তিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই ত্রিদেশীয় সমন্বয় মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব ও পাকিস্তান তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করে, যেখানে পরবর্তীতে তুরস্ক অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি শক্তিশালী সামরিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বে রূপ নেবে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

ডিআর