ইরানসংক্রান্ত সামরিক অভিযানে দীর্ঘ ৯ মাস সমুদ্রে মোতায়েন থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ২৬৬ দিন পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে রণতরিটি। এতে থাকা প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনার মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং হতাশার নানা খবরের মধ্যেই রণতরিটির দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন পরিদর্শন করেন ইরানসংক্রান্ত মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের তদারকিতে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। তার পরিদর্শনের পরই রণতরিটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করছে।
ব্র্যাড কুপার ১০ দিনের সফরে বাহরাইন, ইরাক, ইসরাইল, জর্ডান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে লিংকনে যান। কোনো বন্দরে দীর্ঘ সময় নোঙর না করে টানা প্রায় নয় মাস সমুদ্রে অবস্থানের কারণে নাবিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেকের মধ্যে হতাশা ও মানসিক চাপও বেড়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি আল জাজিরা জানিয়েছে, রণতরিটি থেকে এক মার্কিন সেনা সাগরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তবে ঘটনাটি আত্মহত্যার চেষ্টা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাতে জড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও মার্কিন সেনাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, ইসরাইলের যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে জড়িয়ে ফেলেছেন।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে লিংকনের নাবিকদের দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে মিশনের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে রণতরিটি পরিদর্শন করেছিলেন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। সে সময় সেন্টকম জানিয়েছিল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই লিংকন ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে।
এসএস




Comments