নড়িয়ায় ছাত্রলীগের ‘তকমা’, ২০ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার যুবক
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর এলাকা থেকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক যুবককে আটকের পর প্রায় ২০ ঘণ্টা থানায় রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে গত বছরের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে ওই যুবকের ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পুলিশ দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজনরা।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম সাজ্জাদ মোল্লা (২৫)। তিনি ভোজেশ্বর এলাকার লতিফ মোল্লার ছেলে।
পুলিশ ও সাজ্জাদের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে ভোজেশ্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সাজ্জাদকে আটক করেন ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) জুবায়ের হোসেন। পরে তাঁকে নড়িয়া থানার গারদে রাখা হয়।
সাজ্জাদকে আটকের খবর পেয়ে তাঁর স্বজনরা থানায় গিয়ে কারণ জানতে চাইলে পুলিশ তাঁকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানায়। তবে এ-সংক্রান্ত কোনো দলিল বা প্রমাণ তাঁদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের।
বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহানকে জানানো হলে তিনি বিষয়টি যাচাই করে দেখার কথা জানান। এর প্রায় ২০ ঘণ্টা পর সাজ্জাদকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নড়িয়ার চামটা এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সাজ্জাদের স্বজনদের অভিযোগ, তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এসআই জসিম উদ্দিন তাঁদের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁকে পুরোনো ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই জসিম উদ্দিন।
এদিকে সাজ্জাদের স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় রাশেদ মোল্লা, মাসুম মোল্লাসহ কয়েকজনের সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে পুলিশ দিয়ে আটক করানো হয়েছে। এ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য-প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। বিষয়টির প্রাসঙ্গিক কিছু তথ্য-প্রমাণ এই প্রতিবেদকের কাছেও সংরক্ষিত রয়েছে।
সাজ্জাদের মা ইয়ারুন বেগম বলেন, “আমার ছেলে কখনো কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ছিল না। এরপরও তাকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্য বানিয়ে কারাগারে পাঠানো হলো। আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। এখন আমি কী করব, বুঝতে পারছি না।”
এ বিষয়ে সাজ্জাদকে আটক করা ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জুবায়ের হোসেন বলেন, “সাজ্জাদের ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।”
তবে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বাহাউদ্দিন বাবলা বলেন, “কর্তৃপক্ষের আদেশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
দুই লাখ টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এসআই জসিম উদ্দিন বলেন, তিনি কোনো টাকা দাবি করেননি। তবে গত বছরের ওই মামলায় আগে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে থাকা সাজ্জাদকে কীভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া যুবক যদি তদন্তে নিরপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।”
সাজ্জাদকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আসামি করার পক্ষে কোনো দলিল বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না—জানতে চাইলে পুলিশ সুপার এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।
ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে আটকের পর দীর্ঘ সময় থানায় রাখার পর পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ক্ষেত্রে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন সাজ্জাদের স্বজনরা।
এসএ




Comments