Image description

ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির রাজনীতিতে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। দখলদার ভূখণ্ডটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি একটি বিতর্কিত বিলবোর্ড প্রচারণার মাধ্যমে লড়াই শুরু করেছে, যা নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে ও বাইরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে তেল আবিবের ব্যস্ততম আয়ালন মহাসড়কের ওপর একটি বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেমের পাশে রাখা হয়েছে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে। বিলবোর্ডে এই চারজনের ছবির নিচে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে, “তারা নেতানিয়াহুকে হারাতে চায়, তাদের জিততে দেবেন না।”

নেতানিয়াহু নিজেও এই বিলবোর্ডের ছবি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে প্রচারণাটিকে সমর্থন দিয়েছেন। লিকুদ মূলত বোঝাতে চাইছে যে, নেতানিয়াহুর পরাজয় কামনা করা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো একই স্বার্থে একাট্টা হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থানের কারণে জোহরান মামদানি আলোচিত নাম। লিকুদ তাকে ইরান বা হিজবুল্লাহ নেতাদের সারিতে দাঁড় করিয়ে মূলত ভোটারদের মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সঞ্চার করতে চাইছে। এই পদক্ষেপকে বিরোধীরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন।

লিকুদ পার্টির এই প্রচারণার বিপরীতে বসে নেই বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক দলগুলোও। সাবেক আইডিএফ (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন দল 'ইয়াশার' একটি পাল্টা ব্যঙ্গাত্মক বিলবোর্ড প্রকাশ করেছে। সেখানে লিকুদের ভাষা ব্যবহার করেই লেখা হয়েছে, “তারা আইডিএফকে ধ্বংস করতে চায়, নেতানিয়াহুকে জিততে দেবেন না।” এর মাধ্যমে তারা নেতানিয়াহুর সামরিক নীতির ব্যর্থতাকেই সামনে আনছে।

অন্যতম বিরোধী রাজনীতিক ও নেসেট সদস্য নাআমা লাজিমি 'কাতারগেট' কেলেঙ্কারিকে হাতিয়ার করে লিকুদকে আক্রমণ করেছেন। তিনি তার সংস্করণে কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং নেতানিয়াহুর তিন সাবেক সহযোগীর ছবি বসিয়েছেন। যারা মূলত হামাসের হাতে জিম্মি মুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় কাতারের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগে তদন্তাধীন রয়েছেন। লাজিমির বিলবোর্ডে লেখা হয়েছে, “তারা নেতানিয়াহুকে জেতাতে চায়, তাদের হারতে দেবেন না।”

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, নেতানিয়াহুর পায়ের তলার মাটি কিছুটা আলগা হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন 'ইয়াশার' দল ২৪টি আসন নিয়ে এখন পর্যন্ত দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২২টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন 'বি’ইয়াখাদ' ১৫টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী মাঠ যত উত্তপ্ত হচ্ছে, লিকুদ পার্টি ততই আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু অভ্যন্তরীণ প্রতিপক্ষ নয়, আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের প্রচারণায় যুক্ত করা ভোটারদের মাঝে বিভাজন তৈরির একটি বড় কৌশল। আগামী নির্বাচনে এই প্রোপাগান্ডা যুদ্ধের প্রতিফলন ব্যালট বক্সে কীভাবে পড়বে, তা নিয়ে চলছে গভীর বিশ্লেষণ।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

ডিআর