একসময়ে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রী এবং ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও রানী মুখার্জি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে একে অপরের প্রতি ভালো লাগা ও স্নেহের কথাও প্রকাশ করেছেন তারা।
তবে একটি সিনেমা থেকে বাদ পড়া এবং পরবর্তী সময়ে কিছু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত- দুই তারকার সেই বন্ধুত্বে তৈরি করে দূরত্ব। সম্পর্কে প্রথম বড় টানাপোড়েন শুরু হয় ‘চলতে চলতে’ সিনেমাকে ঘিরে।
সিনেমাটিতে শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয় করার কথা ছিল ঐশ্বরিয়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিনেমা থেকে বাদ পড়েন তিনি। তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় রানীকে। ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হওয়া সত্ত্বেও রানী সেই প্রস্তাবে রাজি হওয়ায় বিষয়টি ভালোভাবে নেননি ঐশ্বরিয়া।
এতে মানসিকভাবে বেশ আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই দুই অভিনেত্রীর সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে বলে বিভিন্ন সময়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এরপর সেই দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়ার বিয়ে। দীর্ঘদিন একাধিক সফল সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার কারণে অভিষেক বচ্চন ও রানীর প্রেমের গুঞ্জন একসময় বলিউডে বেশ জোরালো ছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন অভিষেক। সেই বিয়েতে আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন না রানী। যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ঐশ্বরিয়া কখনো মুখ খোলেননি।
পরবর্তীতে করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’-এ কারিনা কাপুরের সঙ্গে হাজির হয়ে এই দূরত্ব নিয়ে মুখ খোলেন রানী। জল্পনা উস্কে দিয়ে রসিকতার ছলে তিনি বলেন, ‘কারণটা তো তুমি জানোই।’
তবে পরক্ষণেই রানী স্পষ্ট করেন, ঐশ্বরিয়ার প্রতি তার কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তিনি বলেন, আমার কারও ওপর কোনো রাগ নেই। ঐশ্বরিয়ার প্রতি আমার কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। তবে হয়তো ওর দিক থেকে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে, কারণ ও ফোনে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের মাঝে আর সামাজিক কোনো দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। তবে দেখা হলে সম্পর্কটা বেশ সৌজন্যমূলকই থাকবে।’
এদিকে অভিষেক বচ্চনের বিয়েতে আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও এক সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন রানী। তিনি বলেছিলেন, এই বিষয়ে একমাত্র অভিষেকই আলো ফেলতে পারবে। সত্যটা হলো, কেউ যদি তার বিয়েতে আপনাকে না ডাকে, তবে বুঝতে হবে সেই মানুষের জীবনে আপনার স্থান ঠিক কোথায়। আপনি হয়তো ভাবতেই পারেন যে আপনারা বন্ধু, কিন্তু বাস্তবে সেই বন্ধুত্ব হয়তো শুধুই শুটিং সেটের সহ-অভিনেতা হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
রানী আরও বলেছিলেন, যাই হোক, এতে এখন আর কিছু যায় আসে না। বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে আমরা কেবল সহশিল্পী ছিলাম, বন্ধু নই। আর কাকে বিয়েতে ডাকা হবে, সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দ। ভবিষ্যতে আমি যখন বিয়ে করব, তখন আমিও হাতে গোনা কয়েকজনকেই আমন্ত্রণ জানাব।
পরবর্তীতে নির্মাতা আদিত্য চোপড়ার সঙ্গে ইতালিতে গোপনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন রানী মুখার্জি। ফলে নিজের সেই কথারও যেন প্রমাণ দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই অভিনেত্রীর মধ্যকার পুরনো অভিমানের মেঘ অনেকটাই কেটে গেছে। বর্তমানে ঐশ্বরিয়া ও রানীর মধ্যে সৌজন্যমূলক সম্পর্ক রয়েছে বলেই জানা যায়।
২০১৭ সালে ঐশ্বরিয়ার বাবা কৃষ্ণরাজ রাই মারা যাওয়ার পর কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রানী। এতে দুই তারকার সম্পর্কের বরফ অনেকটাই গলেছে বলে মনে করেছিলেন ভক্তরা।
তবে আগের মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে তারা ফিরেছেন কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্যে খুব একটা কথা বলতে দেখা যায় না দুজনকে। নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণও এখন অনেকটাই ব্যক্তিগত রাখতেই পছন্দ করেন বলিউডের এই দুই তারকা।
এমআর




Comments