Image description

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আদালতে দেওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। জবানবন্দি অনুযায়ী, প্রথমে বাড়ির ছাদে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীকে হত্যা করা হয়। পরে নিচতলায় গিয়ে ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকেও হত্যা করেন আসামিরা।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আদালতের সূত্র, তদন্তসংশ্লিষ্ট সংস্থা ও পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মামলার দুই আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের জবানবন্দি অনুযায়ী, ২১ আগস্ট ভোররাতে পাশের বাসার ছাদ থেকে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির দোতলার ছাদে যান। সেখানে পানির ট্যাংকের পাশে বসে তারা মাদক সেবন করছিলেন। ভোর হয়ে গেলে গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গিয়ে তাদের মাদক সেবনে বাধা দেন।

এ সময় দুজন মিলে গণপতির সঙ্গে থাকা গামছা ব্যবহার করে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ছাদের এক কোণে টিন দিয়ে ঢেকে রাখেন। ধস্তাধস্তি ও শব্দ শুনে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ছাদে এলে তাদেরও হত্যা করা হয়। পরে মা ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ির কাছে সরিয়ে রাখেন আসামিরা।

এরপর তারা নিচতলায় নেমে ঘরে থাকা গণপতির ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে দেখতে পান। প্রিয়ম সিদ্ধার্থকে চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর বাড়িতে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যেন ধারণ না হয়, সে জন্য বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন আসামিরা। পরে তারা বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করেন। বাড়ি থেকে কিছু স্বর্ণালংকার ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

এর আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।

গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন দোতলা বাড়িতে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। অবসরের পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাও করতেন।

গত শনিবার রাতে ওই বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেলে চারজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই রাতেই রংপুর নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

এসএস