Image description

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে এখনো প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৩৩টি দেশের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৩৫৯ জন নেপালের এবং তিনজন চীনের তিব্বতের বাসিন্দা। এদিকে এএফপি ১ হাজার ৩৮১ জন নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে। তবে রয়টার্সের হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সবশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ৮২৬ জনের এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুজনকে পরে উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে চিতওয়ানে ১০৮, নওয়ালপরাসি ইস্টে ৬২, ধাদিংয়ে ২৭, গোরখায় ২০, রাসুওয়ায় ১৭, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৫, নুয়াকোটে ১২ এবং তানাহুনে ৯ জন রয়েছেন।

নিখোঁজদের মধ্যে যেসব দেশের নাগরিক

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড ও বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া চীনের ১০০, ভারতের ১৭৮, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, ইউক্রেনের ৫৫, মালয়েশিয়ার ৫০, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩ এবং কানাডার ২৫ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার ৯, সিঙ্গাপুরের ৯, জার্মানির ৮, রাশিয়ার ৮, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬, লাটভিয়ার ৬, জাপানের ৫, নিউজিল্যান্ডের ৫, ফ্রান্সের ৪ ও স্পেনের ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

বেলজিয়ামের ৩, পর্তুগালের ২, নেদারল্যান্ডসের ২, ইতালির ২, আয়ারল্যান্ডের ২ এবং কাজাখস্তানের ২ জনও নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া বেলারুশ, ফিনল্যান্ড, ইসরায়েল, লিথুয়ানিয়া, ফিলিপাইনস, সার্বিয়া ও সুইডেনের একজন করে নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

সুইজারল্যান্ড ও বুলগেরিয়ার একজন করে নাগরিকও নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

কেন বিদেশি নিখোঁজের সংখ্যা বেশি

এএফপি জানিয়েছে, পর্বতারোহণ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক নেপাল ভ্রমণ করেন। পাশাপাশি তীর্থযাত্রায় আসা বিদেশি নাগরিকরাও রয়েছেন। এ কারণে দুর্যোগে নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশিদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

তবে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। দ্বৈত নাগরিকদের দুইবার গণনা, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যের সঙ্গে নিখোঁজ তালিকা সমন্বয় এবং দুর্যোগকবলিত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে সংখ্যায় ওঠানামা হতে পারে বলে জানিয়েছে এএফপি।

চীনের তিব্বতে নিখোঁজদের যে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে নাগরিকত্ব অনুযায়ী আলাদা তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে বিভিন্ন পর্যটন ও ট্রেকিং গ্রুপ ৭৭, ২৬ ও ৮ জন নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছিল। বৃহস্পতিবার নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রকাশিত নতুন তালিকায় এসব ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এসএস