Image description

তিন মাসের দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। মানুষের আনাগোনা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এই সময়ে বনের প্রাণ-প্রকৃতিতে ফিরেছে এক অনন্য সজীবতা। বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ আর নদী-খালে মাছের প্রাচুর্যে এখন মুখরিত পুরো সুন্দরবন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন করতে ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকে। তিন মাসের এই অবরোধে বনজুড়ে নেমে এসেছিল প্রকৃতির এক অদ্ভুত স্বস্তি। পর্যটকদের কোলাহল ও জেলেদের জালের বিড়ম্বনা না থাকায় বনের খালের পাড়ে বাঘের অবাধ বিচরণ, কুমিরের শিকার ধরা এবং হরিণের পালের নির্ভয় চলাফেরা লক্ষ্য করা গেছে।

২৪ ঘণ্টার কড়া ‘স্মার্ট পেট্রোলিং’ বা বিশেষ টহলের মাধ্যমে কঠোর নজরদারি থাকায় এই সময়ে বনজ অপরাধ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে নদীগুলোতে মাছের সংখ্যা বেড়েছে এবং সুন্দরী ও গেওয়ার মতো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদগুলো আরও ঘন ও সজীব হয়ে উঠেছে।

এদিকে সুন্দরবন খোলার খবরে উপকূলীয় এলাকার জেলে ও মৌয়ালদের মধ্যে বইছে আনন্দের ঢেউ। দীর্ঘ তিন মাস আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় তাদের পরিবারে অর্থকষ্ট থাকলেও, এখন বুকভরা আশা নিয়ে জাল ও নৌকা মেরামত করে বনে প্রবেশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

বন কর্মকর্তারা বলছেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে এই বার্ষিক অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর। এটি বন্যপ্রাণী ও মৎস্য সম্পদের প্রজনন হার বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে সুন্দরবন পুনরায় খোলার পর লাখো পর্যটক ও বনজীবীর পদচারণায় বনের এই সদ্য ফিরে পাওয়া প্রাণ-প্রকৃতি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিআর