Image description

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে সন্তান প্রসবের পর ‘মৃত’ বলে জানানো এক নবজাতক চার বছর পর জীবিত থাকার দাবি উঠেছে। শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সন্তানকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (৩০ আগস্ট) মদনেরপাড়া বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় ফুলছড়ির মদনেরপাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের চান মিয়ার স্ত্রী আকলিমা বেগম প্রসববেদনা নিয়ে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সন্তান প্রসবের পরপরই একটি দালালচক্র শিশুটিকে সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরে আকলিমা বেগম ও তার স্বজনদের জানানো হয়, নবজাতকটি মারা গেছে। শিশুটির মরদেহ দেখতে চাইলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলা হয়, মৃত শিশুটিকে হাসপাতালের ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সন্তান হারানোর শোক নিয়ে পরে বাড়ি ফিরে যান পরিবারের সদস্যরা।

তবে সম্প্রতি কিছু তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারটি জানতে পারে, তাদের সন্তানটি আসলে জীবিত এবং তাকে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার বিষয়ে সম্প্রতি কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই বৈঠকে মমতা বেগমসহ কয়েকজন নবজাতক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সন্তানকে উদ্ধারের দাবিতে রোববার মদনেরপাড়া বাজারে মানববন্ধন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে আকলিমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “চার বছর ধরে ভেবেছি আমার সন্তান মারা গেছে। এখন শুনছি তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই।”

পরিবারের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র হাসপাতালের একশ্রেণির অসাধু কর্মীর যোগসাজশে নবজাতক সরিয়ে নিয়ে বিক্রি করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য ফুলছড়ি থানায় সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শিশুটি বর্তমানে কোথায় এবং কার কাছে রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফুলছড়ি থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। লিখিত অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসএ