বকেয়া ভাড়ার জেরে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’র অফিসে ভাঙচুর-হুমকি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
বকেয়া ভাড়া চাওয়ার জেরে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, অফিসে ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে জীবনের নিরাপত্তা ও বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ট্যুর এশিয়ার স্বত্বাধিকারী ও সরকার স্বীকৃত ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ খালেদ সাইফুল্লাহ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে মূল অভিযুক্ত করা হয়েছে ফেনীর ছাগলনাইয়ার বাসিন্দা ও ‘ছালেহা ট্রেডিং কর্পোরেশন’-এর স্বত্বাধিকারী এম এ হক শিপনকে। এছাড়া তার সহযোগী মোহাম্মদ আলী আজিম, শিপনের বন্ধু বরিশালের জুয়েল এবং মাদারীপুরের শেখ ফরিদকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পল্টন চায়না টাউনে খালেদ সাইফুল্লাহর অফিসের বৃহৎঅংশ ভাড়া নেন এম এ হক শিপন। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তার প্রায় ১০ লাখ টাকা ভাড়া বকেয়া হয়। এরপর বকেয়া পরিশোধে দুটি চেক (যা পরে ব্যাংকে গেলে বাউন্স হয়) ও স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিলেও তা পরিশোধ না করে উল্টো পাওনাদারকে হয়রানি করে আসছেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খালেদ সাইফুল্লাহ ব্যবসায়িক কাজে চীনে অবস্থান করার সময় অভিযুক্ত শিপন ও তার সহযোগী আজিম পল্টন চায়না টাউনস্থ তাঁর অফিসে গিয়ে ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধন করেন। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে ফোন, ফেসবুক ও বার্তার মাধ্যমে তাকে শারীরিক ক্ষতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এছাড়া অভিযুক্ত শিপন নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা ও প্রভাবিত করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তির জন্যও অবমাননাকর।
এর আগে ঘটনাটির প্রতিকার চেয়ে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পল্টন মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ এবং ২৯ মার্চ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৮৭১) করেন ভুক্তভোগী। তবে দীর্ঘদিন পার হলেও তিনি কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত শিপনের সহযোগী জুয়েল ও শেখ ফরিদ বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগের মাধ্যমে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেছেন। এর ফলে সমাধান দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং ভুক্তভোগী ধারাবাহিকভাবে মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন।
অভিযোগে খালেদ সাইফুল্লাহ উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা অবস্থায় তাকে কারাভোগ করতে হয়। দীর্ঘ চার মাস চার দিন কারাভোগের পর ড. ইউনূসের প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের একজন হিসেবে তিনিও দেশে ফিরেন। পরবর্তীতে তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের হয়রানি ও হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান খালেদ সাইফুল্লাহ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে ফোন করলে এম এ হক শিপন প্রথমে বলেন, উনি (খালেদ সাইফুল্লাহ) আমার কাছে কোনো টাকা পান না।
টাকা না পেলে দুটি চেক (যা পরবর্তীতে বাউন্স হয়) এবং টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারনামা কেন দিয়েছিলেন জানতে চাইলেন তিনি বলেন, আপনি (প্রতিবেদক) দায়িত্ব নিলে আমি দুই মাসের মধ্যে তার সব টাকা দিয়ে দেবো। টাকা দিতে আমার দুই মাস সময় লাগবে।




Comments