প্রান্তিক প্রতিভা থেকে বিশ্বমঞ্চ: উশুতে তৈরি হচ্ছে লাল-সবুজের নতুন ইতিহাস
ম্যাটের ওপর প্রতিযোগী অ্যাথলেটের ক্ষিপ্র গতি, নিখুঁত টেকডাউন আর অনমনীয় মনোযোগের শরীরী ভাষা। স্রেফ একটি ট্রফি বা মেডেলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, যেন প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে নিজেদের আত্মমর্যাদা প্রমাণের এক অনবদ্য লড়াই। রাজধানীর মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে জাঁকজমকপূর্ণ আবহে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে পর্দা নামলো দুই দিনব্যাপী ‘চায়না এম্বাসেডর কাপ উশু চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর।
পেশাদারিত্বের উত্তপ্ত ম্যাটে একদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবির মতো সুসংগঠিত সামরিক শক্তি, অন্যদিকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা প্রান্তিক শিশুদের অদম্য সাহস। দেশের ২১টি দলের প্রায় আড়াইশো অ্যাথলেটের শক্তিমত্তা ও কৌশলের এই লড়াইয়ে প্রতিটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছিল চরম শিহরণ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আধুনিক বিশ্বায়নের যুগে 'স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি' বা ক্রীড়া কূটনীতির কৌশলগত গুরুত্ব গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি চীন-বাংলাদেশের এই সুদৃঢ় কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের সুফল হিসেবে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এদেশের উশু অ্যাথলেটদের আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে একটি পৃথক ‘উশু কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেন।
উশু ফেডারেশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, উশু কেবল গণ্ডিবদ্ধ কোনো খেলা নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মানের প্রতীক। তৃণমূলের সুপ্ত প্রতিভাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি তিনি উশু অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের জন্য এক যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানান। এখন থেকে উশু সংশ্লিষ্ট সকল অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা আশিয়ান মেডিকেল কলেজে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মেলবন্ধনের ওপর বিশেষ জোর দেন বিশেষ অতিথি চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। চীনের জাতীয় খেলা উশুকে বাংলাদেশে আরো ব্যাপকমাত্রায় বিস্তৃত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতার পূর্ণ আশ্বাস দেন তিনি। এর মাধ্যমে দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ক্রীড়া বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা।
তৃণমূলের অদম্য প্রাণশক্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আর বিশ্বজয়ের নতুন স্বপ্নে সফল সমাপ্তি ঘটলো এই টুর্নামেন্টের। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব তরুণ অ্যাথলেটদের আত্মপ্রত্যয়ী পদক্ষেপেই আগামী দিনে লাল-সবুজের পতাকা বিশ্ব ক্রীড়ামঞ্চে ওড়াবে এক নতুন মহিমায়।




Comments