সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মানবপাচার, গুম ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) আরও ক্ষমতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ১৯৭৯ সালের আইন বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।
‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পরীক্ষা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। ৬ সেপ্টেম্বর কমিটির বৈঠকে বিলটি পরীক্ষা করা হয়। পরদিন সংসদে বিলটি উপস্থাপন করেন বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন।
প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনের সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব, ক্ষমতা, তদন্ত, শৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এপিবিএনের অধীনে সাইবার সেল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। অপরাধ তদন্তের প্রয়োজনে হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও থাকছে।
বাড়ছে এপিবিএনের দায়িত্ব
নতুন আইনে জননিরাপত্তা রক্ষা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব এপিবিএনের ওপর থাকবে।
এ ছাড়া সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমন, মানবপাচার, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং গুম ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে।
আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে এসব অপরাধের তদন্তও করতে পারবে এপিবিএন। তদন্তের প্রয়োজনে ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও থাকবে।
তবে এপিবিএনের কোনো সদস্য কাউকে গ্রেপ্তার করলে বা কোনো আলামত জব্দ করলে তা দ্রুত নিকটস্থ থানার হেফাজতে হস্তান্তর করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিতে হবে।
এপিবিএনের নিজস্ব দুই আদালত
এপিবিএন সদস্যদের অপরাধের বিচার করতে বিশেষ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত ও সংক্ষিপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
বিশেষ আদালতে বিদ্রোহ, বিদ্রোহে উসকানি, বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ওপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার হবে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে অস্ত্র বা সরঞ্জাম নষ্ট বা হারানো, দায়িত্বে অবহেলা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনানুগ আদেশ অমান্য, চাঁদা আদায় এবং সম্পত্তি লুট বা ধ্বংসের মতো অপরাধের বিচার হবে সংক্ষিপ্ত আদালতে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।
কোনো এপিবিএন সদস্য ৯০ দিনের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বলে গণ্য করা হবে। বিশেষ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবস এবং সংক্ষিপ্ত আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশে অনুমতি লাগবে
প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএন সদস্যদের গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ওপরও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো সদস্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা দলিল প্রকাশ করতে পারবেন না।
এ ছাড়া শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি ও জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনো সদস্যকে শাস্তি দেওয়া যাবে না।
১৯৭৯ সালের অধ্যাদেশ বাতিল
নতুন আইন কার্যকর হলে ১৯৭৯ সালের ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ বাতিল হবে। তবে পুরোনো আইনের অধীনে নেওয়া ব্যবস্থা, চলমান মামলা, আবেদন, আপিল ও অন্যান্য কার্যক্রম নতুন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বহাল থাকবে।
বিলের কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এপিবিএন প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ, আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও মানবপাচারের মতো নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীটির আইনগত কাঠামো আধুনিক করতেই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসএস




Comments