দুর্গাপূজায় কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে নতুন সিনেমা নিয়ে হাজির হচ্ছেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত। এবারের সিনেমায় তাঁকে দেখা যাবে পুলিশ কর্মকর্তা অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রে। তবে পূজার সময় কলকাতায় থাকতে পারছেন না এই অভিনেতা। শুটিং ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে তখন তিনি থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নতুন সিনেমা, সহ-অভিনেতা ও পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, অভিনয়-প্রযোজনা এবং দুর্গাপূজার স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন যিশু।
নতুন সিনেমায় পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে যিশু জানান, নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এর আগে ‘পোস্ত’ ও ‘বাবা বেবি ও’ সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে আবারও কাজের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত এই অভিনেতা।
এবার শিবপ্রসাদকে শুধু পরিচালক হিসেবে নয়, সহ-অভিনেতা হিসেবেও পেয়েছেন যিশু। শিবপ্রসাদের অভিনয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁর অভিনয়ের মধ্যে এমন এক ধরনের শক্তি রয়েছে, যার বিপরীতে অভিনয় করতে হলে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়।
যিশুর মতে, শিবপ্রসাদ যদি আরও আগে থেকে নিয়মিত অভিনয় করতেন, তাহলে অনেক অভিনেতার জন্যই প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে যেত। তাঁর ভাষ্য, শিবপ্রসাদ এমন একজন অভিনেতা, যিনি সহ-অভিনেতার ভেতর থেকে আরও ভালো অভিনয় বের করে আনতে পারেন।
সহ-অভিনেতার অভিনয়ের ক্ষেত্রেও নিজের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন যিশু। তাঁর মতে, শুধু নিজের অভিনয় ভালো করলেই একটি দৃশ্য সফল হয় না; বিপরীতে থাকা অভিনেতাকেও সমানভাবে ভালো করতে হয়। এ প্রসঙ্গে কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের দেওয়া একটি পরামর্শের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত যিশু। অভিনয় নাকি প্রযোজনা—কোনটি বেশি কঠিন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দুটিই তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর মতে, কোনো কাজই সহজ নয়; বিষয়টিকে কতটা জটিলভাবে দেখা হচ্ছে, সেটিই মূল বিষয়।
প্রযোজক হিসেবে বক্স অফিসের চাপ প্রসঙ্গে যিশু বলেন, অভিনেতা হিসেবেও তাঁকে বক্স অফিসের চিন্তা করতে হয়। একটি সিনেমা আয় করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সিনেমায় কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে প্রযোজক হিসেবে একটি সিনেমায় সাফল্য না এলে পরবর্তী সিনেমা নির্মাণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো অভিমান আছে কি না—এমন প্রশ্নে যিশুর উত্তর, তাঁর কোনো অভিমান নেই। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত যা পেয়েছেন, তাতেই তিনি অত্যন্ত খুশি।
তবে এবারের দুর্গাপূজায় কলকাতায় থাকতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে তাঁর। শুটিং ও অনুষ্ঠানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হবে তাঁকে। ফলে নিজের বেড়ে ওঠার শহরের পূজার আবহকে খুব মিস করবেন বলে জানান এই অভিনেতা।
ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারানো যিশুর শৈশব কেটেছে দেশপ্রিয় পার্কের কাছাকাছি এলাকায়। সেখানকার দুর্গাপূজার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আবেগ জড়িয়ে আছে। তিনি জানান, এলাকার পূজা এখনো আগের মতোই সাবেকি ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সুযোগ পেলেই সেখানে ভোগ বিতরণ করেন তিনি। তবে এবার কলকাতায় থাকতে না পারায় সেই পরিচিত পূজার পরিবেশকে খুব মনে পড়বে তাঁর।
ডিআর




Comments