Image description

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চলতি সপ্তাহে ভারত সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে আরও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখনো নানা বাধা ও পারস্পরিক সন্দেহ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং। দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বার্ষিক ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই বৈঠক দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

১৯৬২ সালের যুদ্ধ এবং ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-চীন সম্পর্কে অবিশ্বাস রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে গত বছর মোদির চীন সফর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উভয় দেশের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও কিছু অগ্রগতি হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে ভারত চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে। ইলেকট্রনিকস, মূলধনি পণ্য ও সৌরকোষ খাতকে এর আওতায় রাখা হয়। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ডিক্সন টেকনোলজিস ও চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা ভিভোর যৌথ উদ্যোগের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও অনুমোদন করেছে নয়াদিল্লি।

তবে এসব পদক্ষেপ এখনো বড় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। নয়াদিল্লির বাড়তি নজরদারির কারণে গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি ও গ্রেট ওয়াল মোটর ভারতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ স্থগিত করেছে বলে ভারতীয় সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে।

অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকেও ভারতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু খাতে বাড়তি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে উন্নত উৎপাদন ও উচ্চপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট খাতে চীনা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ নিয়ে বেইজিংয়েরও সতর্কতা রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কে ভিসা জটিলতা, শিল্প সরঞ্জাম সরবরাহে বিলম্ব এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বড় বাধা হয়ে রয়েছে। ভারতের সৌরশক্তি, ইলেকট্রনিকস ও অবকাঠামো খাতের প্রয়োজনীয় চীনা যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম চীনা কাস্টমসে আটকে থাকার অভিযোগও রয়েছে। কিছু বড় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য চীন থেকে আনা টানেল খননকারী যন্ত্র এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে বলে এক ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, ভিসা ও সরঞ্জাম আটকে থাকার ঘটনা শুধু প্রশাসনিক জটিলতা নয়; বরং ভারতের বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত নির্ভরতা চীন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে—এমন ইঙ্গিতও এতে রয়েছে।

তবে মোদি-শি বৈঠক হলে এসব বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সাবেক ভারতীয় বাণিজ্য কর্মকর্তা অনুপ ওয়াধাওয়ান। তাঁর মতে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় তৈরির সুযোগ করে দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এনএ