Image description

সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনী বাতিলের দাবি জানিয়েছে দেশের শীর্ষ কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এক সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

স্থায়ী কমিটির ভাষ্য, হেবা বা দানের মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তির ভোগ, দখল ও ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রেখে সংশোধিত বিধানটি আনা হয়েছে। তাদের দাবি, এ বিধান ইসলামি শরিয়াহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সভায় জানানো হয়, সংশোধিত বিধান অনুযায়ী পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদি ও নাতি-নাতনি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাতার ভোগদখলের অধিকার নিবন্ধিত দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটি বলেছে, ইসলামি শরিয়ায় হেবা একটি স্বতন্ত্র সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতি। হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর মালিকানা, দখল ও সংশ্লিষ্ট অধিকার শরিয়াহর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে মিরাস কার্যকর হয় ব্যক্তির মৃত্যুর পর এবং শরিয়াহ নির্ধারিত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের মাধ্যমে।

কমিটির অভিমত, হেবা ও মিরাসের বিধান এক নয়। তাই এ দুই ব্যবস্থার মধ্যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করে এমন আইনগত কাঠামো তৈরি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভায় আলেম-উলামা ও ইসলামি আইনজ্ঞদের উত্থাপিত শরঈ আপত্তির বিষয়েও আলোচনা হয়। পরে স্থায়ী কমিটি সংশোধিত বিধানকে শরিয়াহবিরোধী আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনটি পুনর্বিবেচনা ও বাতিলের দাবি জানায়।

একই সঙ্গে মুসলমানদের হেবা, উত্তরাধিকার ও পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে দেশের আলেম-উলামা ও ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আল-হাইআতুল উলয়া আশা প্রকাশ করেছে, সরকার সংশোধিত আইনের শরঈ ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় বিধান পালনের অধিকার ও পারিবারিক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনগত কাঠামো নিশ্চিত করবে।

এনএ