তথ্য গোপন করে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার এক আসামি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন। জামিন আবেদনের শুরুতে উল্লেখ ছিল না তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার কথা। তবে আদালত নথি খুঁজতে গিয়ে জানতে পারেন আসামি ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামি। পরে আদালত আইনজীবীকে সতর্ক করে আসামি আমিনুল ইসলাম রাজুর জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
কোর্ট সূত্রে জানা যায়, শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি আমিনুল ইসলাম রাজুর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। আইনজীবী বাচ্চু মিয়া এ আবেদন করেন। জামিন আবেদনের শুরুতে (কজ টাইটেল) নিয়ম অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে কোন কোন ধারা আছে সেটা উল্লেখ থাকে। কিন্তু আসামি আমিনুল ইসলাম রাজু যে হত্যা মামলার আসামি সেটা উল্লেখ ছিল না। অর্থাৎ কজ টাইটেলে ৩০২ ধারার কথা উল্লেখ ছিল না।
গতকাল জামিন শুনানির শুরুতে আদালত তার পক্ষের আইনজীবী মশিউর রহমানের কাছে জানতে চান, আসামি হত্যা মামলার আসামি কি না? জবাবে আইনজীবী নীরব থাকেন। আদালত ভিকটিমের নাম জানতে চাইলে আইনজীবী শুধু ‘ওসমান’ বলে থেমে যান। এ সময় বিচারপতিদের সন্দেহ হয়। জামিন আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত নথি দেখে বুঝতে পারেন এটা ওসমান হাদি হত্যা মামলা। পরে আদালত আসামির জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে তথ্য গোপন করায় আইনজীবীকে সতর্ক করেন।
এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্ত মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. আমিনুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের অনুমতি দেন আদালত।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত দেড়টায় মিরপুর-১১ থেকে আমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি উল্লিখিত নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন। ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সুকৌশলে এড়িয়ে যান।
এর আগে এ মামলায় নয়জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আসামিরা হলেন—ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া আক্তার ও তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। তাদের মধ্যে ফয়সালের মা-বাবা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। হাদিকে গুলি করার পর ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে হাদি মারা গেলে মামলাটিতে হত্যার ধারা ৩০২ যুক্ত হয়।
এমআর




Comments