Image description

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ১২ বছর বয়সী মো. রায়হান সাত মাস নিখোঁজ থাকার পর ফিরে এসেছে। তবে তার ডান পা নেই। পরিবারের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের খপ্পরে পড়ে রায়হানকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৎ মায়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় সাত মাস আগে চুল কাটার কথা বলে বাবার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় রায়হান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে চুনতি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত সিরাত মাহফিলের সমাপনী দিনে সিরাত ময়দানে ভিক্ষা করার সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি রায়হানকে চিনতে পারেন। পরে বিষয়টি তার বাবাকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে শনাক্ত করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, “ছেলেকে চুল কাটার জন্য ১০০ টাকা দিয়ে বাজারে পাঠিয়েছিলাম। পরে শুনেছিলাম, সে একটি মিছিলের গাড়িতে করে চুনতি বাজারে গিয়েছিল। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাইনি। সাত মাস পর ছেলেকে ফিরে পেলাম, কিন্তু তার ডান পা নেই।”

রায়হানের দাবি, চুনতি থেকে প্রথমে কক্সবাজারে যাওয়ার পর একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তার ডান পা কেটে ফেলা হয় এবং পরে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। ভিক্ষা করে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে চক্রের সদস্যদের দিতে হতো বলেও দাবি করেছে সে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন শিশুকে পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো হয়েছে বলেও রায়হান জানিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় শিশুদের অপহরণ বা নানা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার মতো অপরাধে সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে।

তবে রায়হানের বক্তব্যের সত্যতা, তার পা কীভাবে এবং কোথায় কাটা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

রায়হানের পরিবার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি তার চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের জন্য সরকারি সহায়তাও চেয়েছে পরিবারটি।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “রায়হানের পা কেটে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগ অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, রায়হানকে প্রতিবন্ধী ভাতাসহ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

এসএ