Image description

কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির ব্যক্তিগত ‘প্রতিশোধপরায়ণতা’ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার দুই ছেলে। তাদের দাবি, বাবার ওপর কঠোর আচরণ ও কারাবাসের মাধ্যমে তাকে ‘ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে’।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের দুই ছেলে কাশিম খান (২৭) ও সুলাইমান খান (২৯) এসব অভিযোগ করেন। তারা জানান, বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে তারা ‘অত্যন্ত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।

সুলাইমান বলেন, ইমরান খান বর্তমানে মানুষের সংস্পর্শহীন একটি ছোট ৬ বাই ৮ ফুটের প্রকোষ্ঠে বন্দি। গত কয়েক মাস ধরে তাকে নতুন কোনো বই দেওয়া হয়নি। পরিবার কিংবা কোনো নিরপেক্ষ চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা বা কথা বলার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইমরানের ছেলেদের দাবি, তাদের বাবার ওপর এমন ‘নিষ্ঠুর’ আচরণের পেছনে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাজ করছে। তাদের অভিযোগ, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আসিম মুনিরকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। পরে ২০২৩ সালে মুনির সেনাপ্রধান হওয়ার পর ইমরান খানের ওপর নিপীড়ন আরও বেড়ে যায়।

সুলাইমান বলেন, ‘এটা খুবই স্পষ্ট যে এটি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।’ তার দাবি, আসিম মুনিরের নির্দেশেই ইমরানের সঙ্গে এত কঠোর আচরণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কাশিম খান বলেন, নিরপেক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে তার বাবার প্রকৃত শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি। তাদের আশঙ্কা, কারাগারের ভেতরে ইমরান খানকে ‘ধীরে ধীরে তিলে তিলে শেষ’ করার চেষ্টা চলছে।

তবে ইমরান খানের ছেলেদের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার। এক বিবৃতিতে সরকার এগুলোকে ‘বানোয়াট অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছে। সরকারের ভাষ্য, ইমরান খান পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। তাকে ঘরের তৈরি খাবার, বাদাম, বোতলজাত পানি, ব্যায়ামের সরঞ্জাম, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

সরকার আরও বলেছে, ইমরান খানের ওপর শাস্তিমূলক নির্জন কারাবাস, নিষ্ঠুরতা বা কোনো ধরনের বঞ্চনার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

ইমরানের দুই ছেলে আরও জানান, তারা পাকিস্তানে যেতে আগ্রহী হলেও ভিসার জন্য আবেদন করার নয় মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো ভিসা পাননি। তারা বলেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রবেশ কিংবা ইমরানের দল পিটিআইয়ের নেতৃত্ব নেওয়ার কোনো আগ্রহ তাদের নেই।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

এনএ