Image description

সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিউমার্স হায়দারি। তার দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন যুদ্ধের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানে যেতে বাধ্য করেছে।

বুধবার ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও প্রকাশনা বিষয়ক কাউন্সিল’-এর এক সভায় বক্তব্য দেন হায়দারি। তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিজয়ী অবস্থানে রয়েছে।

হায়দারি বলেন, কোনো রক্ষনশীল পক্ষ যদি আক্রমণকারীকে নির্ধারিত সময় ও স্থানে তার লক্ষ্য অর্জনে বাধা দিতে পারে, তাহলে সেই পক্ষকেই বিজয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, যে শত্রু ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা উৎখাতের স্বপ্ন দেখেছিল, তারা এখন যুদ্ধক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় বা প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকায় রয়েছে। অর্থাৎ, তারা কোনো পদক্ষেপ নিলে তা ইরানের পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই নিতে হচ্ছে।

ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কমান্ডার দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে দেশটির সামরিক সক্ষমতা মার্কিন নৌ-শক্তির দুর্বলতাও প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার অন্যতম প্রধান শক্তি তাদের নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজ। কিন্তু কয়েক রা ত আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ভারী যুদ্ধজাহাজ ও ফ্রিগেটগুলোতে আঘাত হেনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

হায়দারির দাবি, ইরানের হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাহিনীকে ইরান থেকে অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় পায় এবং সামরিক সংঘাত তো দূরের কথা, দেশটির নাম উচ্চারণ করতেও দ্বিধাবোধ করে। কিন্তু ইরান এমন পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলা করছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে ইসরায়েল ও আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ইরান সামরিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে।

ইরানের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতার বিষয়টিও তুলে ধরেন হায়দারি। তিনি বলেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটির সশস্ত্র বাহিনী নিজস্ব প্রযুক্তি ও সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি আরও দাবি করেন, শত্রুর প্রতিটি ‘উদ্ধত পদক্ষেপের’ জবাবে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং এতে দেশটির সামরিক সক্ষমতা প্রতিপক্ষকে বিস্মিত করেছে।

হায়দারি বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সামনে দুটি পথ খোলা থাকবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মার্কিন সেনাদের একটি অংশ যুদ্ধজাহাজে করে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হবে, আর অন্যদের সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: প্রেসটিভি।
এমআর