নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে আবারও ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে তারা অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের পঞ্চম তলায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর একে একে আরও নয়জন অসুস্থ হয়। এতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রায় সবারই মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও অচেতন হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শেখ মাহমুদুর রহমান জানান, ১০ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি সাতজনের চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে।
চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনাকে গণহিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একজনের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা দেখে অন্যদের মধ্যেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
তবে বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়া এক শিক্ষার্থীর বাবার আচরণ নিয়ে সন্দেহের কথা জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই ব্যক্তি বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য এবং স্থানীয়ভাবে ওষুধের ব্যবসা করেন। তাঁর দোকানে ওষুধের পাশাপাশি কীটনাশকও বিক্রি করা হয়। বিষয়টি উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল জানান, ওই শিক্ষার্থীর বাবার ওষুধের দোকানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সেখানে ওষুধের পাশাপাশি কীটনাশক বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার পেছনে মনস্তাত্ত্বিক কারণের পাশাপাশি অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিকে বলা হয়েছে।
এ নিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ের মোট ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর ১৮ জন এবং ১৪ সেপ্টেম্বর ২২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছিল।
জেলা সিভিল সার্জন ও নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, হাসপাতালে পাঠানো তিন শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। প্রাথমিকভাবে তিনিও গণমনস্তাত্ত্বিক সমস্যার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
এসএস




Comments