ফরিদপুরের সদরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে এম এ মোস্তাফিজুর রহমান (৪৬) নামে এক স্কুলশিক্ষককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়িতে ভাঙচুরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জাকেরডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষককে রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত মোস্তাফিজুর রহমান জাকেরডাঙ্গী গ্রামের সফিউদ্দীন রহমানের ছেলে। তিনি সদরপুর উপজেলার আকটেরচর ইউনিয়নের শোনপাচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হেলমেট পরা ১৪-১৫ জনের একটি দল মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে মোস্তাফিজুরকে গুলি করে তারা বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে চলে যায়।
মোস্তাফিজুরের বোন মোহসীনা আক্তার বলেন, স্কুল শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পর তার ভাইকে অনুসরণ করে হামলাকারীরা বাড়িতে আসে। তাদের কয়েকজনের হাতে হকিস্টিক, রামদা, চাপাতি ও কাঠের লাঠি ছিল। জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের দাবি, চরভদ্রাসনের ব্যবসায়ী আলতাফ শেখের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জেরে গত ৭ সেপ্টেম্বর আলতাফ শেখের প্রায় দুই বিঘা জমির ৩৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
মোস্তাফিজুরের বাবা সফিউদ্দীন রহমান অভিযোগ করেন, ২৬ শতাংশ জমি বিক্রির পর ক্রেতা আরও প্রায় ৪০ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরেই তার ছেলের ওপর হামলা হয়েছে। আলতাফ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মইদ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল্লাহ আল মইদ। তিনি বলেন, তাদের দেখে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মোস্তাফিজুরের পায়ে আঘাত লাগে। তার দাবি, শিক্ষকটির পা আগে থেকেই ভাঙা ছিল।
অন্যদিকে, হাসপাতালে দেওয়া ইনজুরি নোটে মোস্তাফিজুরের ডান পায়ে গুলির ক্ষত এবং হাঁটুর নিচের অংশের দুটি হাড় ভেঙে যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ডান কাঁধের হাড়ের স্থানচ্যুতি, বুকে আঘাতের দাগ এবং ডান হাতে ফোলা ও ব্যথার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। হাসপাতালের পরিচালক হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগও করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএস




Comments