নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মূল বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাংলা নববর্ষের ভাতায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবিত কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতার হার বর্তমান হারের তুলনায় ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানোর কথা বলা হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা বৈশাখী ভাতা হিসেবে তাঁদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ অর্থ পান। তবে নতুন বেতন স্কেলের প্রস্তাবে এই ভাতার হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অবশ্য নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ফলে বৈশাখী ভাতার শতাংশীয় হার কমলেও মূল বেতন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মচারীদের প্রাপ্ত বৈশাখী ভাতার মোট টাকার অঙ্ক শেষ পর্যন্ত বর্তমানের তুলনায় বাড়তেই পারে।
নতুন প্রস্তাবনায় বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, মোবাইল, যাতায়াত ও টিফিন ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হলেও কেবল বৈশাখী ভাতার হার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চর অঞ্চলের ভাতা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারেই বহাল রাখা হয়েছে। তবে এসব ভাতার ক্ষেত্রে একটি সর্বোচ্চ সীমা (সিলিং) নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। এছাড়া ঝুঁকি ভাতাসহ অন্যান্য বিশেষ ভাতার পরিমাণ আগের চেয়ে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন এই বেতন কাঠামো অনুমোদন পায়। এটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে বর্ধিত মূল বেতন এককালীন না দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং নতুন অন্যান্য ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রিসভায় পাশ হলেও নতুন পে স্কেলের গেজেট এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে গেজেট প্রকাশের পর বৈশাখী ভাতাসহ সার্বিক ভাতার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট হবে।
ডিআর




Comments