Image description

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক রাজনৈতিক চিত্র তুলে ধরে দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খান বলেন, "সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, তার বন্ধু সার্কেল কেমন—সেটার খোঁজখবর রাখা আমাদের প্রত্যেক বাবা-মায়ের দায়িত্ব। নতুবা আগামীকাল আপনার-আমার সন্তানের পরিণতিও অপ্রতিমের মতো হতে পারে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেয়।"

তিনি উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তার হওয়া তিন ঘাতক এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে অপ্রতিম মূল ঘাতক তুহিনের সাথে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটাচলা করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অপ্রতিম একটু সিনিয়র ক্লাসের ভাইদের সাথে মিশতে পছন্দ করত এবং সেই সূত্র ধরেই তুহিনদের সাথে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। 

তিনি বলেন, "আমরাও ছোটবেলায় এলাকার বড় ভাইদের সাথে ওঠাবসা করেছি, কিন্তু খারাপ ছেলেদের থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে বাবা-মায়ের শাসন ও নৈতিক নির্দেশনা একটি বড় ব্যাপার।"

সব এলাকাতেই তুহিনদের মতো কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত রয়েছে উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, ফেসবুকে চটকদার ছবি ও সিনেমাটিক ভিডিও প্রকাশ করে এরা অল্পবয়সী তরুণদের আকর্ষিত করে সার্কেলে ভিড়ায়। আইফোনের লোভে ছবি তোলার কথা বলে শিশু অপ্রতিমকেও ঘর থেকে বের করে আনা হয়েছিল। বাবা-মায়ের কর্মব্যস্ততায় হয়তো এ যোগাযোগের বিষয়টি নজর এড়িয়ে গেছে। অপ্রতিমের এই নির্মম হত্যাকাণ্ড কিশোর গ্যাং কঠোরহস্তে নির্মূলের বার্তা দেয় উল্লেখ করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সব ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করতে পারেন, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি বর্তমান বিরোধীদলের দেশব্যাপী নিত্যনতুন কর্মসূচির নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত থাকবে, নাকি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রোধে মনোযোগ দেবে, নাকি সামাজিক অপরাধ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে? কারণ জনসংখ্যার অনুপাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, আর গত ১৬ বছরে বাহিনীগুলোকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টার ইতিহাসও কারও অজানা নয়।"

বিরোধী দলের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, "যেখানে বিরোধী দলের দায়িত্ব ছিল বিগত ১৬ বছরে তৈরি হওয়া জঞ্জাল, অপসংস্কৃতি, অপরাধ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দমনে সরকারকে সহযোগিতা করা, সেখানে উল্টো অসহযোগিতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক করে তারা ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। একপাশে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ বাসে আগুন দিচ্ছে, ককটেল মারছে; অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ১ দফার হুমকি দিয়ে রাজপথ গরম করছে। অর্থাৎ বিএনপি সরকারকে একসঙ্গে দুটি বিরোধী দলের অপতৎপরতা সামলিয়ে দেশ চালাতে হচ্ছে, যা সরকার ও রাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।"

এই কঠিন রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক পক্ষকে সম্মিলিতভাবে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

ডিআর