Image description

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প কিউবাকে একটি চরম ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি দ্বীপরাষ্ট্রটি শীঘ্রই ধসে পড়বে বলে মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই আগ্রাসী বক্তব্য ও চরম হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে ভাষণ চলার মাঝপথেই জাতিসংঘের কক্ষ ত্যাগ করে বয়কট করেন কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চাপের মুখে রয়েছে এবং দেশটি চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ঘোষণা দেন, তার প্রশাসন কিউবার রাজনীতি ও পরিস্থিতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনতে চায় এবং খুব শীঘ্রই সেখানে স্বাধীনতার সূর্য উঠবে। এর আগেও বেশ কয়েকবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনো উপায়ে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তার মতে, মার্কিন উপকূল থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই কমিউনিস্ট শাসিত দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক অভূতপূর্ব হুমকি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কিউবার শীর্ষ শীর্ষ নেতারা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘে কিউবার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন সরকার কোনোভাবেই কিউবার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন অস্তিত্ব মেনে নিতে পারছে না। তিনি স্পষ্ট জানান, কিউবা একটি শান্তিপূর্ণ দেশ এবং মিথ্যাচার করে কিউবার আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।

অন্যদিকে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল মার্কিন প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কিউবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবরোধকে আড়াল করতেই জাতিসংঘে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব মিথ্যাচার ও রূপকথা পরিবেশন করছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, নিজেদের আগ্রাসী ও গণবিরোধী নীতিকে আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র বারবার কিউবাকে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।

গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন কিউবার ওপর কড়া জ্বালানি ও শক্তি অবরোধ আরোপ করার পর থেকে ওয়াশিংটন ও হাভানার কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক মনস্তাত্ত্বিক চাপের পর জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এই বাকযুদ্ধ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে আরও মারাত্মক সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ঠেলে দিল।

সূত্র: এনডিটিভি
এমআর