Image description

হাওরবেষ্টিত নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার প্রত্যন্ত জগন্নাথপুর গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান শুভ আহমেদ। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও অধ্যবসায়ী শুভ নানা প্রতিকূলতা, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও প্রত্যন্ত জনপদের বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমে এগিয়ে গেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে অবশেষে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের পরীক্ষায় সফল হয়ে সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

শুভ আহমেদের বাবা মো. কুদ্দুস মিয়া জগন্নাথপুর গ্রামের একজন ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী। গ্রামের ছোট্ট একটি কাপড়ের দোকান পরিচালনা করেই তিনি সংসারের ব্যয়ভার বহনের পাশাপাশি ছেলের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও ছেলের মেধা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর বিশ্বাস ছিল অটুট। নানা কষ্ট ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ছেলেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন।

হাওরবেষ্টিত খালিয়াজুরীর প্রত্যন্ত এই জনপদে শিক্ষার সুযোগ ও মান নিয়ে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। বর্ষাকালে চারদিকে পানি, যোগাযোগব্যবস্থার সংকটসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতা এখানকার মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। এসব বাধা অতিক্রম করে শুভ আহমেদ প্রমাণ করেছেন—সুযোগ সীমিত হলেও মেধা, অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

শুভ আহমেদের এই অর্জনে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একজন ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীর সন্তান থেকে সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থীর জন্যও অনুপ্রেরণার গল্প।

শুভ আহমেদের সাফল্য প্রমাণ করে, প্রতিকূল পরিবেশ কখনোই স্বপ্নপূরণের পথে চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না। দৃঢ় সংকল্প, নিরলস পরিশ্রম এবং পরিবারের সহযোগিতা থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের একজন তরুণও জাতীয় পর্যায়ে নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন।

এসএ