Image description

কারাগারে চরম অপরিচ্ছন্ন ও আলো-বাতাসহীন সেলে রাখা, পচা খাবার দেওয়া এবং রিমান্ডে নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। একই সাথে সংশ্লিষ্ট কারাগারের কারারক্ষীরা আওয়ামী লীগের অনুসারী দাবি করে তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁরা তাঁকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করতেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গাজী সালাউদ্দিন তানভীর বলেন, ‘‘গত ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, অথচ ৫ আগস্ট বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার দিনে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আমাকে বগুড়ার কারাগারে এমন একটি সেলে নেওয়া হয়, যেটি ছিল চরম অপরিচ্ছন্ন এবং আলো-বাতাসহীন। সেখানে কোনো বিদ্যুৎ বা ফ্যানও ছিল না।’’

কারাগারের ভেতরের খাবারের অব্যবস্থাপনা ও শারীরিক অসুস্থতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘৫ আগস্ট প্রথম জেলে নেওয়ার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে সবাইকে ভালো খাবার দেওয়া হলেও আমাকে দুইদিনের পুরোনো ও পচা খাবার দেওয়া হয়। কারাগারে নিয়মিত এমন পচা-বাসি খাবার দেওয়া হতো যা খাওয়ার একেবারেই অযোগ্য ছিল। একপর্যায়ে আমি মারাত্মক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য আমাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।’’

কারারক্ষীদের ভূমিকা ও অমানবিক আচরণের বিষয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘‘কারারক্ষীরাও আওয়ামী লীগের। তাদের বেশিরভাগই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের এবং তারা আমাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করত। শুধু কারারক্ষীই নয়, আশপাশের কয়েদিরাও আওয়ামী লীগের আসামি এবং তারাও যা-তা বলে সম্বোধন করত।’’

পরবর্তীতে ঢাকার স্থানান্তরের বিষয়ের বর্ণনা দিয়ে এনসিপির এই অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা বলেন, ‘‘পরবর্তীতে কেরানীগঞ্জ কারাগারে যেখানে রাখা হয়, সেটিও খুবই খারাপ একটি সেল ছিল। পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনার পর শুধু এদিক-সেদিক ঘুরানো হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে ডাক্তার দেখিয়ে জেলে নেওয়ার সময় গাড়িতে হঠাৎ সাদা পোশাকে কয়েকজন লোক উঠে আসে এবং তারা আমাকে টর্চার (নির্যাতন) করে।’’

ডিআর