রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে পদ বাণিজ্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৫ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাবি শাখার সাথী পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। শিবিরের বিভিন্ন সময়ের ৩টি চিঠিতে তার পদ স্থগিত ও পরবর্তীতে বাতিলের তথ্য পাওয়া গেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর একটি ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
প্রথম চিঠিটি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির। তৎকালীন রাবি শিবিরের সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাথী সালাউদ্দীন আম্মার কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে। যা দেশের প্রথম সারির প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ও রিপোর্টের মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। তাছাড়াও বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্ম থেকে তার নৈতিক পদস্থলনজনিত কয়েকটি অভিযোগ আসে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘উল্লিখিত অভিযোগসমূহ গত ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শাখার মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সালাউদ্দীন আম্মারের নৈতিক পদস্থলনের অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সালাউদ্দিন আম্মারের সাথীপদ মূলতবি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হলে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এরপর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আরেকটি চিঠিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাথী সালাহউদ্দিন আম্মার কর্তৃক দীর্ঘদিন সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং বারবার সংশোধনী দেওয়া সত্ত্বেও সংশোধন না হওয়ায় মুহতারাম বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ভাই তার সাথী পদ বাতিল করেছেন।’
এদিকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাবি শিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত তৃতীয় চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন এবং সম্পদের তছরুপ, সংগঠনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে রাবি শাখার সাথী সালাউদ্দিন আম্মারের সাথীপদ মূলতবি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় (ফেব্রুয়ারি-২০২৫) মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে।’
শিবিরের বিভিন্ন সময়ের তিনটি চিঠিতে তার পদ স্থগিত ও পরবর্তীতে বাতিলের তথ্য পাওয়া গেছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেপ্টেম্বর-২৫ মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে তার সাথী পদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে তার কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারী অপরাধে জড়িত হওয়ার ফলে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তার নিয়মিত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘এমতাবস্থায় তার অনলাইন এবং অফলাইন কর্মকাণ্ডে পজিটিভ এবং নেগেটিভ কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিরত থাকা। শুধুমাত্র রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলরা তার সঙ্গে দাপ্তরিক সম্পর্ক রাখবেন। তাছাড়া সব স্তরের জনশক্তির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ করা হচ্ছে।’
তবে শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন আম্মার। রাকসু নির্বাচনে শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ হিসেবে আলোচিত হওয়া ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন আম্মার।
ওই প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী মেহেদী সজীব পরে শাখা শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এবার শিবিরের সাথী হিসেবে আম্মারের নাম সামনে আসায় ডামি প্যানেলের বিষয়টি আবারও আলোচনা নতুন করে সামনে এনেছে।
এ বিষয়ে জানতে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোনে কোনো সাড়া দেননি। পরে মুঠোফোনে মেসেজ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
চিঠির সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, ‘চিঠিটি সত্য এবং ২০২৫ সালেই তাকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়।’
এমআর




Comments