Image description

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বিস্তীর্ণ জলাশয়ে ভাসমান সবুজ পাতার সমারোহে কৃষকের নতুন স্বপ্ন ধরা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে এ অঞ্চলে পানিফলের (স্থানীয়ভাবে 'শিংড়া' নামে পরিচিত) বাম্পার ফলন হয়েছে। অত্যন্ত অল্প খরচ ও কম পরিশ্রমে ভালো ফলন এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় স্থানীয় চাষীদের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি।

নিচু জমিতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

মান্দা উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা বছরের কয়েক মাস বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকে। একসময় এসব জলাবদ্ধ জমি পতিত পড়ে থাকলেও, এখন তা কৃষকদের আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। পানিতে ডুবে থাকা এসব জমিতে কৃষকরা এখন বাণিজ্যিকভাবে পানিফল চাষ করছেন। প্রথাগত অন্যান্য ফসলের তুলনায় মূলধন ও পরিশ্রম উভয়ই কম হওয়ায় এই জলজ ফল চাষে তাদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান ও বক্তব্য

উপজেলার সার্বিক পানিফল চাষের বিষয়ে মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ শায়লা শারমিন জানান, উৎপাদন খরচ তুলনামূলক অনেক কম হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা পানিফল চাষে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হচ্ছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৩ হেক্টর নিচু জমিতে পানিফলের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে প্রায় ৬ মেট্রিক টন পানিফল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

তিনি আরও জানান, এই ফসলে রোগবালাইয়ের আক্রমণ একেবারেই কম। তাই বাড়তি কোনো কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। তবে পানিতে থাকার কারণে অনেক সময় ফলের গোড়ায় কিছুটা পচন ধরতে পারে, যা সামান্য পরিমাণ অনুমোদিত কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলেই খুব সহজেই নিরাময় করা সম্ভব।

চাষীদের অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তি

পানিফল চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজারে বর্তমানে মৌসুমী ফল হিসেবে পানিফলের বেশ ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় পানিফল চাষী পরিমল নিজের সফলতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, "এটি মূলত ৫ মাসের একটি ফসল। অন্য যেকোনো ফসলের তুলনায় এতে উৎপাদন খরচ অনেক কম এবং রোগবালাই নেই বললেই চলে। বাজারে এর চাহিদাও প্রচুর, যার কারণে আমরা দামও ভালো পাচ্ছি। মূলত এসব কারণেই আমরা পানিফল চাষে বেশি ঝুঁকেছি।"

তিনি আরও জানান, মাঠে ফসল থাকাকালীন যেকোনো সমস্যায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শনে আসেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন। কৃষি বিভাগের এই মাঠ পর্যায়ের নিবিড় তদারকির ফলেও কৃষকরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন।

জলাবদ্ধ অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে মান্দার কৃষকরা যেভাবে পানিফল চাষে সফলতা পেয়েছেন, তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবং বাজারের বর্তমান দাম অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে পানিফল চাষীরা আশাতীত লাভবান হবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এসএ