ফেসবুকে কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে রাবিতে সংঘাতের আশঙ্কা, পরিবহন চত্বরে অস্ত্রের মহড়া
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিবের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মুখোমুখি অবস্থানের জেরে ক্যাম্পাসের পরিবহন চত্বরে দেশীয় অস্ত্র ও বেসবল ব্যাট নিয়ে অনুসারীদের সহ অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রদল নেতা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ' নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে। সেখানে রাবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে অভিযুক্ত করে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম কমেন্ট করে বলেন, "এগুলো ছাত্রলীগের বয়ান।" কমেন্টের পরপরই মেসেঞ্জারে রাকিবুলকে চরম গালাগালি ও সশরীরে দেখে নেওয়ার হুমকিমূলক বার্তা পাঠান ছাত্রদল নেতা আহসান হাবিব। হুমকি সম্বলিত স্ক্রিনশটটি রাকিবুল ফেসবুকে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
মেসেঞ্জারে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে রাকিবুল ইসলাম জানান, তিনি রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে একাই অবস্থান করবেন। ঘোষণা অনুযায়ী রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরিবহন চত্বরে অবস্থান নেন রাকিবুল। তবে সে সময় আহসান হাবিব সেখানে উপস্থিত হননি।
পরবর্তীতে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে রাকিবুল স্থান ত্যাগ করার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে অনুসারীদের সাথে নিয়ে হকি স্টিক ও বেসবল ব্যাট উঁচিয়ে পরিবহন চত্বরে মহড়া দেন ছাত্রদল নেতা আহসান হাবিব। এরপর রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি।
এ বিষয়ে রাকসুর সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমি সেখানে সকাল থেকেই উপস্থিত ছিলাম। বিকাল ৫টা পর্যন্ত থাকার পরও সে আসেনি। আমি চলে আসার পর জানতে পারলাম তারা এসেছে। ছাত্রদলের কয়েকজন হকিস্টিক নিয়ে এসেছে। তারা হয়তো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রেখে যাওয়া দায়িত্ব পালন করছে। তারা চেষ্টা করতে থাকুক এবং দেখুক ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা তাদের এসব হকিস্টিক গ্রহণ করে কি না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব বলেন, সম্প্রতি সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের ফটোকার্ড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ গ্রুপে পোস্ট করায় রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম আমাকে ও আমার মা-বোনকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। আমি তাঁকে ইনবক্সে বলেছি, ছাত্রদলকে লাগবে না, আমি একাই যথেষ্ট। সাহস থাকলে আমার সামনে আসতে বলেছি।
তিনি আরও বলেন, আজ সে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকার ঘোষণা দিলেও অসুস্থ থাকায় তাঁর পোস্টটি দেখতে পারিনি। পোস্টটি দেখার ২০ মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাসে এসে তাঁকে পাইনি। আমি এখন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করব। তাঁর যদি সাহস থাকে, তাহলে সালাউদ্দিন আম্মারকে সঙ্গে নিয়ে আমার সামনে আসুক। পারলে তাঁদের সঙ্গে সামনাসামনি কথা হবে।
এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী জানান, আমি এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানি না। ওদের সাথে কথা বলে বিষয়টা দেখছি।
সার্বিক উদ্ভূত পরিস্থিতি ও উত্তেজনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বিকালের পর থেকে এ বিষয়টা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছে। এ বিষয়টা আমরা প্রশাসন জেনেছি। আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে নিভৃত করার এবং তাদেরকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি।
ডিআর




Comments