সরকারি নিয়ম মেনে প্রতিবন্ধী সন্তানের ভাতার বই পাওয়ার জন্য আবেদন করেও চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন এক অসহায় বাবা। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের সমাজকর্মী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওই প্রতিবন্ধী শিশুর ভাতার বই আটকে রেখে সরাসরি ২২,০০০ (বাইশ হাজার) টাকা ঘুষ দাবি এবং মানসিক ও আর্থিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই বাবা উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের বাসিন্দা মো. আসাদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে প্রতিকার ও অভিযুক্ত সমাজকর্মীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি।
আবেদনপত্র সূত্রে জানা গেছে, আসাদুল ইসলামের সন্তান মো. হামিম হাসান একজন তীব্র শারীরিক প্রতিবন্ধী। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২০২২ সালে তার সন্তানের জন্য 'সুবর্ণ নাগরিক কার্ড' প্রাপ্তির পর প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন সম্পন্ন করেন তিনি। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে আসাদুল ইসলাম কিছুদিনের জন্য প্রবাসে অবস্থান করায় ভাতার বইটি উত্তোলনে সাময়িক বিলম্ব ঘটে।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত প্রায় ৫ মাস আগে আসাদুল ইসলাম দেশে ফিরে সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। কিন্তু নওগাঁ ইউনিয়নের সমাজকর্মী মো. মনিরুজ্জামান ওই ভাতার বইটি হস্তান্তরের বিনিময়ে সরাসরি ২২,০০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
তিনি বলেন, "আমার স্যারকে টাকা না দিলে বইয়ে স্বাক্ষর করেন না।" কিন্তু ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই সমাজকর্মী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রেজিস্টারভুক্ত প্রতিবন্ধী ভাতার বইটি আটকে রেখে তাকে হয়রানি করে আসছেন।
ভুক্তভোগী পিতা আসাদুল ইসলাম বলেন, "একজন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছ থেকে প্রতিবন্ধী সন্তানের ভাতার বই নিতে এসে এমনভাবে প্রকাশ্য ঘুষ দাবি ও হয়রানির শিকার হব—তা ভাবতে পারিনি। অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নওগাঁ ইউনিয়নের সমাজকর্মী মো. মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, "বই দিতে দেরি হচ্ছে, এ জন্য টাকা চেয়েছি—এমনটি বলা হচ্ছে।"
তবে তাড়াশ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিন বলেন, "এমন ঘটনা আমার জানা নেই; আমি বর্তমানে সিরাজগঞ্জে মিটিংয়ে আছি। ভুক্তভোগীকে অফিসে পাঠিয়ে দিয়েন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।" তবে বৈধ ভাতাগ্রহীতার ভাতার বই আটকে রাখা বা না দেওয়ার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এমন কোনো সুযোগ নেই।"
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. হাবিবুর রহমান খান জানান, বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআর




Comments