Image description

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সব ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুতি এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে একে অপরের ওপর পাল্টা হামলার ঘটনার পর ইয়েমেন সরকার এ ঘোষণা দিল।

হুতি জানিয়েছে যে, তারা সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা তাদের বর্ণনা অনুযায়ী গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ৫০টি বিমান হামলার জবাব।

গত মাসে হুতিদের আক্রমণের পর ইয়েমেন সরকারের এমন তীব্র প্রতিক্রিয়া আসবে বলেই মনে করা হচ্ছিল, যে আক্রমণের মাধ্যমে হুতিরা দেশটির উপকূলভাগ এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল পথ 'বাব আল-মান্দাব প্রণালি'র নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে।

রোববার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল আলিমি টিভিতে এক ভাষণে বলেন, “আজ আমি দেশের বাকি থাকা সব এলাকা ফিরে পেতে এবং পুরো দেশে সরকারের শাসন ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি।"

ইয়েমেনের রাজধানী সানা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দখল করে রেখেছিল হুতিরা। সরকারি বাহিনী গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতা ভেঙে ফেলতে দীর্ঘদিন ধরে হামলা চালিয়েছে।

হুতিদের ওপর হামলা ইয়েমেন জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে দলটির উত্তরের মূল ঘাঁটি সা’দা অঞ্চলও রয়েছে। 

ইয়েমেনের সম্মুখ সমরে এখনও মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজ, যা এখনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রোববার হুতিরা ইয়েমেনি সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনের সঙ্গে তাইজের সংযোগ থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ রুট কেটে দিয়েছে।

ইয়েমেনের তিনটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, হুতি বিদ্রোহীরা ওই এলাকা ও সরবরাহ পথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ফলে কার্যত তাইজ শহরটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এসএস